

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় এক ব্যক্তি কয়েকজন নারীর চুল কেটে দিচ্ছেন। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ‘মুগদা উপজেলা জামায়াতের নেতা আলী হাসান দুই বেদে নারীর চুল কেটে দিয়েছেন।’
তবে তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, এ দাবির কোনো সত্যতা নেই। প্রকৃতপক্ষে এটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরির অভিযোগে তিন নারীকে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়ার পুরোনো ঘটনার ভিডিও, যা নতুন করে ভিন্ন প্রেক্ষাপটজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিডিওটির সঙ্গে জামায়াত নেতা আলী হাসান বা বেদে সম্প্রদায়ের কোনো নারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ভিডিওটি চলতি বছরের ২ মার্চ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ডহরগাঁও এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি বহুল আলোচিত ঘটনার।
সেই ঘটনায় স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগ তুলে তিন নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় এবং তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনে জানা যায়, ডহরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার বাড়িতে চুরির অভিযোগে ওই তিন নারীকে আটক করা হয়। পরে সেলিম মিয়া, তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি তাদের বেঁধে রেখে নির্যাতন চালান এবং চুল কেটে দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছিলেন রূপগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি মো. সবজেল হোসেন।
পুলিশ জানিয়েছিল, নির্যাতনের শিকার তিন নারীর মধ্যে দুজন খুলনার এবং একজন কুমিল্লার বাসিন্দা। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে তারা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, কাজের সন্ধানে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কাঁচি দিয়ে তিন নারীর চুল কেটে দিচ্ছেন। এ সময় এক নারীকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, ‘বাবা, চুলডি কাইট্টো না।’
এরপর ওই ব্যক্তি তাকে হুমকি দেন। পরে আরও কয়েকজনকে তাদের মারধর করতে দেখা যায়।
ঘটনার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেছিলেন, চুরি অপরাধ হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। কাউকে বেঁধে রাখা, মারধর করা কিংবা চুল কেটে দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পুরোনো ওই ভিডিওকে নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বেদে সম্প্রদায়ের নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে একজন জামায়াত নেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তথ্য যাচাইয়ে স্পষ্ট হয়েছে, ভাইরাল ভিডিওটি বেদে সম্প্রদায়ের নারী কিংবা কোনো জামায়াত নেতাকে ঘিরে সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। এটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরির অভিযোগে তিন নারীকে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়ার পুরোনো ঘটনার ভিডিও।
ফলে ‘দুই বেদে নারীর চুল কেটে দিয়েছেন মুগদা উপজেলা জামায়াত নেতা আলী হাসান’— এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।