

দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য একসময় যাদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হতো, বাবা-মা হারিয়ে যারা নিভৃতে পার করছিলেন মানবেতর জীবন। আজ গণমাধ্যমের সংবাদে বদলে গেল পটুয়াখালীর বাউফলের সেই তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের পৃথিবী।
দেশ ও প্রবাসের মানবিক মানুষের ভালোবাসায় এখন আর তারা একা নন। তাদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য খোলা বিশেষ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ টাকা।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ ওই তিন প্রতিবন্ধী ভাইকে ডেকে অগ্রণী ব্যাংক বাউফল শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন।
বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামের দাসনগর এলাকার তিন ভাই রিপন দাস, সাধু দাস ও নিধু দাস। তিনজনেই জন্ম থেকে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। মা ও বাবা চলে যাওয়ার পর নিদারুণ কষ্টে দিন কাটছিল তাদের।
সম্প্রতি তাদের নিয়ে কালবেলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
প্রতিবন্ধী ভাইদের স্বজন অমিত দাস জানান, বাউফলের ইউএনও সালেহ আহমেদ প্রথমে ঘটনাটি জানতে পেরে তাদেরকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। এরপর তিনি নগদ টাকাসহ খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। এ নিয়ে কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম ও ফেসবুকে লেখালেখি হলে বদলাতে থাকে তাদের ভাগ্য।
স্থানীয় এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার বেতনের টাাকা তুলে দেন তাদের হাতে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় বাউফল উপজেলা বিএনপি। বিএনপি নেতা সামুয়েল আহমেদ লেলেন এসে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পৌঁছে দেন।
প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর দেশ ও বিদেশের অনেক মানুষ তিন প্রতিবন্ধী ভাইকে সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বাউফলের ইউএনও সালেহ আহমেদের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সহায়তা গ্রহণের জন্য একটি যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নেন।
অ্যাকাউন্টটি তত্ত্বাবধান করবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সালেহ আহমেদ জানিয়েছেন, তিন ভাইয়ের উপস্থিতিতেই ব্যাংক হিসাবটি সচল করা হয়েছে। তবে এই অর্থ যেন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে, সেজন্য টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সমাজসেবা কর্মকর্তার যৌথ অনুমোদন বা তদারকি থাকবে।
তিনি আরও জানান, তাদের চিকিৎসা, জরুরি প্রয়োজন বা পুনর্বাসনের জন্য এই তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি, এই জমাকৃত অর্থের যে লভ্যাংশ বা মুনাফা আসবে, তা দিয়ে নিয়মিতভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ চালানো হবে।