

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো তার বহুল আলোচিত ‘ফ্রি স্কুল মিলস’ কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রধান দাদান হিন্দায়ানাকে বরখাস্ত করেছেন। দেশজুড়ে এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক খাদ্য বিষক্রিয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারদলীয়দের প্রতিশ্রুতির অন্যতম কেন্দ্রীয় অংশ ছিল বহুমিলিয়ন ডলারের ফ্রি মিলস প্রকল্প। এর লক্ষ্য ছিল দেশজুড়ে প্রায় ৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন) স্কুলশিশুকে বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা।
তবে কর্মসূচি শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার শিশু খাদ্যজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়, যা পরে বড় আকারের জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে পরিণত হয়।
একটি স্থানীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৩৩ হাজার খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন বাজেট ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগ এনে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা কর্মসূচি পরিচালনাকারী জাতীয় পুষ্টি সংস্থার কার্যালয়ে অভিযান চালান এবং কর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
এসব ঘটনার পর দাদান হিন্দায়ানাকে বরাখাস্ত করার পর ফ্রি স্কুল মিলস কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রধান পদে বসানো হয় সেটির ডেপুটি নানিক সুধার্যতি দেয়াংকে। তিনি প্রাবোওর নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সুধার্যতি এক সময় সাংবাদিকতা করতেন।
তবে তার নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, খাদ্য নিরাপত্তা বা পুষ্টি বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা সীমিত, যা কর্মসূচির সমস্যাগুলো আরও বাড়াতে পারে।
ফ্রি স্কুল মিলস কর্মসূচিটি ইতোমধ্যে ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি যখন বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে যাওয়া এবং দুর্বল মুদ্রার চাপে রয়েছে, তখন এই প্রকল্পের বিশাল ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সরকার সম্প্রতি আর্থিক চাপ কমাতে কর্মসূচির কিছু পরিবর্তন এনেছে। ফলে এখন সপ্তাহে ছয় দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিন খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
সমালোচকদের একাংশের মতে, শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, পুরো পরিকল্পনা ও ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। না হলে সমস্যাগুলো অব্যাহত থাকবে।
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে একাধিক সমস্যা রয়েছে এবং যারা নিয়ম ভঙ্গ করবে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি একইসঙ্গে দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলো এই কর্মসূচির সুফল পাচ্ছে এবং এটি বন্ধ করা উচিত নয়।