

কাজের আশায় ওমানে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভারতের হায়দরাবাদের ২৬ বছর বয়সী শবনম বেগম। তিনি দাবি করেছেন, তাকে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করানো হয়েছে, চার মাসেরও বেশি সময় কোনো বেতন দেওয়া হয়নি এবং শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে।
শবনম জানান, গত ২৬ মার্চ স্থানীয় এক নিয়োগ এজেন্ট মাসে ২০০ ওমানি রিয়াল (প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয় রুপি) বেতনে গৃহকর্মীর চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাকে ওমানের মাসকাটে পাঠায়। রোববার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে শবনমের ভিডিওটি শেয়ার করা হয়।
নিজের ধারণ করা ওই ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে বিভিন্ন বাড়িতে দীর্ঘ সময় কাজ করানো হয়; কিন্তু কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। এমনকি দেড় মাস পর্যন্ত তার কাছে মোবাইল ফোনও রাখা হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, তাকে মারধর করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে তিনি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে মাসকাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে আশ্রয় নেন। তবে তার অভিযোগ, নিয়োগ এজেন্টরা তার পাসপোর্ট নিয়ে রেখেছে।
হায়দরাবাদের রাজনীতিক আমজেদ উল্লাহ খানের কাছে পাঠানো ভিডিওবার্তায় শবনম তাকে উদ্ধারের আবেদন জানান। পরে আমজেদ উল্লাহ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
তিনি নিয়োগ এজেন্টের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
এদিকে মাসকাটে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা বিষয়টি আমলে নিয়েছে এবং যথাযথ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দূতাবাস শবনমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কাজ করছে।