

গালাগাল বা কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করলেই তা আইনগতভাবে অশ্লীলতা হিসেবে গণ্য হবে না বলে রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। রোববার (১৯ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ এক ব্যক্তির করা আপিল শুনানিতে এ মন্তব্য করেন। ওই ব্যক্তি মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ২৯৪ ধারায় তার সাজা বহাল রাখা হয়েছিল।
রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, কোনো বক্তব্যকে অশ্লীল হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তা অবশ্যই যৌন আকাঙ্ক্ষা উসকে দিতে হবে এবং যারা তা শুনবে বা দেখবে তাদের নৈতিকভাবে বিপথে পরিচালিত করার প্রবণতা থাকতে হবে।
আদালত আরও বলেন, অভিযোগে বর্ণিত সব তথ্য সত্য ধরে নিলেও অভিযুক্তের ব্যবহৃত ভাষাকে আইনের দৃষ্টিতে অশ্লীল বলা যায় না। কারণ, কেবলমাত্র আপত্তিকর, অরুচিকর বা অসভ্য ভাষা ব্যবহার করাই আইপিসির ২৯৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।
বেঞ্চ উল্লেখ করেন, এই মামলায় এমনও প্রমাণ নেই যে অভিযুক্তের কথাবার্তায় জনসমক্ষে উপস্থিত অন্য কেউ বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। অথচ জনসমক্ষে অন্যদের বিরক্ত করা ২৯৪ ধারার অপরাধ প্রমাণের একটি বাধ্যতামূলক উপাদান।
মামলার ঘটনা ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তামিলনাড়ুর একটি কৃষিজমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে। প্রথমে অভিযুক্তের সঙ্গে তার ভগ্নিপতির বাকবিতণ্ডা হয়। দুই দিন পর একই জমি নিয়ে অভিযোগকারীর ভাতিজার সঙ্গে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযোগকারী মধ্যস্থতা করতে গেলে অভিযুক্ত তাকে কুরুচিকর গালাগালি ও তফসিলি জাতিকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য করেন।
বিচারিক আদালত অভিযুক্তকে আইপিসির ২৯৪(বি) (অশ্লীলতা), ৩২৬ (গুরুতর আঘাত) এবং ৫০৬(২) (অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করার পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও তপশিলি জনজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইনের আওতায়ও দোষী ঘোষণা করে।
পরে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এসসি আইনের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিলেও আইপিসির ধারাগুলোর অধীনে দেওয়া সাজা বহাল রাখে। তবে সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্ট ২৯৪(বি) ধারার ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, শুধু গালাগাল বা অশালীন শব্দ ব্যবহার করলেই তা আইনের চোখে অশ্লীলতার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না।