

দেশব্যাপী সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর ইরানে বহু বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে দেশটির অর্থনীতি আরও সংকটে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ ও বিচার বিভাগ বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেনি। তবে তেহরানের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে তরুণদের জনপ্রিয় বহু ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, আর্ট গ্যালারি ও আইসক্রিম পার্লার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয়েছে, তাদের কনটেন্ট ‘দেশের নিয়ম ও পুলিশি বিধি লঙ্ঘন’ করেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে ধর্মঘট পালন বা ইনস্টাগ্রামে সমর্থন প্রকাশ করেছিল।
সোমবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স ৮১ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলি সাঈদিনিয়ার একটি ‘স্বীকারোক্তিপত্র’-এর ছবি প্রকাশ করে। সাঈদিনিয়া ও তার পরিবার দেশজুড়ে জনপ্রিয় ক্যাফে ও খাদ্য ব্র্যান্ড পরিচালনা করতেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছে। তার সব ব্যবসা বন্ধ এবং সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। অস্থিরতার সময় হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণ সামাল দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, বাজারের সমস্যার কারণে এবং কারখানার অর্থায়নের প্রয়োজনে আমার ছেলে ভুলবশত তেহরান বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দোকান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। আমরা এখন আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি এবং প্রিয় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি।
ইরান সরকার দাবি করেছে, অস্থিরতার সময় ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজরা এসব সহিংসতার জন্য দায়ী। অন্যদিকে, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির সর্বশেষ হিসাবে বলা হয়েছে, ৬ হাজার ৯৬৪ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আরও ১১ হাজার ৭৩০টি ঘটনার তদন্ত চলছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাই সাতো বলেছেন, প্রকৃত সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি হতে পারে, তবে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের কারণে তথ্য পাওয়া কঠিন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের এক মাসেরও বেশি সময় পরও ইরানের অর্থনীতি চাপে রয়েছে। মঙ্গলবার খোলা বাজারে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দর ছিল প্রায় ১৬ লাখ ২০ হাজার রিয়াল। এটি গত মাসের সর্বনিম্ন রেকর্ডের কাছাকাছি।
তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে বেশিরভাগ দোকান খোলা থাকলেও বেচাকেনা আগের তুলনায় অনেক কম। এক ব্যবসায়ী জানান, কয়েক সপ্তাহ খুব খারাপ বিক্রির পর এখন আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশে ফিরেছি। বেশিরভাগ লেনদেন নগদে হচ্ছে। কেউই চেক ব্যবহার করতে আগ্রহী নয়।
ডাউনটাউনের জোমহুরি এলাকাতেও দোকান খোলা থাকলেও সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। মাঝে মাঝে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার দেশজুড়ে র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করছে সরকার। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জনগণকে এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ‘শত্রুকে হতাশ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারাও জনগণকে যোগ দিতে বলেছেন।