কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইসরায়েলের নতুন নীলনকশা, পশ্চিম তীরে আতঙ্ক

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পশ্চিম তীরে বসতি দখল সংক্রান্ত নতুন আইন অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। এর ফলে অধিকৃত এই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি ইহুদিদের জন্য সম্পত্তি কেনা সহজ হবে। এতে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত আইনের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ১৯৬৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে এখন থেকে ইহুদিরা আরও সহজে জমি কিনতে পারবেন। পাশাপাশি ভূমি নিবন্ধন নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের এ আইনের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে জমির মালিকদের পরিচয় সহজে জানা যাবে এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা চাপ ও হয়রানির মাধ্যমে জমি দখলের পথ সুগম করবে। এছাড়া হেবরনের অবৈধ ইহুদি বসতিতে নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষমতা এবং ইব্রাহিমি মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ফিলিস্তিনি হেবরন পৌরসভার কাছ থেকে নিয়ে ইসরায়েলের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক মোয়াতাজ আবু স্নেইনা বলেন, এই সিদ্ধান্ত ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে গুরুতর পদক্ষেপ। ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলমানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এটি ইহুদিদের কাছে ‘টম্ব অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস’ নামে পরিচিত।

১৯৯৪ সালে এক ইসরায়েলি উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারী মসজিদে গুলি চালিয়ে ২৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। পরে স্থানটি মুসলিম ও ইহুদি প্রার্থনার জন্য ভাগ করে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কয়েকশ’ বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় হেবরনের কেন্দ্রস্থলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

আবু স্নেইনা বলেন, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে হেবরন ও মসজিদে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। উপাসনায় বাধা, প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ, আজানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সবই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ।

হেবরন রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির পরিচালক মোহান্নাদ আল-জাবারি বলেন, পুরোনো শহরে পৌরসভার দোকান জব্দ, নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণ এবং পানি সরবরাহ ইসরায়েলি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি বিশাল বর্ণবাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি পাড়াগুলো খালি করে বসতিগুলোকে ইব্রাহিমি মসজিদের সঙ্গে যুক্ত করে একটি ইহুদি কোয়ার্টার প্রতিষ্ঠা করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাবিল ফারাজ বলেন, ইসরায়েল ভৌগোলিক বাস্তবতা পুনর্গঠন করছে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ খর্ব করার চেষ্টা করছে। এটি শান্তি প্রক্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দিল্লির হোটেলে আগুন দেখে পালান মালিক, গ্রেপ্তারের পর দিলেন স্বীকারোক্তি

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুমড়েমুচড়ে গেল ইসরায়েলি ট্যাংক

বজ্রপাতে কিশোর ছেলের মৃত্যু, আহত মা

প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে আইভরি কোস্টের চমক

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার টার্গেট কিউবার প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

দুপুরের মধ্যে দেশের ৮ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আজকের নামাজের সময়সূচি

১০

৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

১১

বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

১২

জার্মানিতে ভেঙে পড়লো উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার

১৩

আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, জবাব না দিলে লাইসেন্স বাতিল

১৪

ভৈরবে রেলপথ অবরোধ, ৫ ট্রেন আটকা

১৫

৬ দফা দাবিতে চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মানববন্ধন, শনিবার থেকে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

১৬

সিএন্ডএফ ভবনেই মিলবে চসিকের ট্রেড লাইসেন্স, বুথ স্থাপনের নির্দেশ মেয়রের

১৭

নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

১৮

নানার বাড়ি থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ, খালে মিলল মরদেহ

১৯

দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, একাধিক বাড়িঘরে আগুন

২০
X