

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, সে বিষয়ে সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে ইসরায়েল। তবে আপাতত দেশটি সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা করছে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের তিনটি সূত্র।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, জুলাইয়ের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে শুরু হলেও ইসরায়েল এখনো সরাসরি এতে অংশ নেয়নি। এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনও তেল আবিবকে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়নি।
একটি সূত্র জানায়, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং ইসরায়েলকে অংশ নিতে বলেন, তাহলে দেশটি প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সীমিত পরিসরের নিরাপত্তা বৈঠকে ইরান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া, ইরানের এমন কোনো পদক্ষেপ যার জবাবে ইসরায়েল হামলা চালাবে, অথবা আসন্ন হুমকি ঠেকাতে আগাম হামলা।
রোববার সেনাপ্রধান ইয়াল জামির বলেন, যে কোনো সময় আবার যুদ্ধ শুরু করার জন্য আমরা প্রস্তুত। আমাদের ওপর হামলা হলে আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে জবাব দেব।
তবে একটি সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিই ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অন্যের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, পারমাণবিক সমঝোতা থেকে দূরে রয়েছে এবং একই সঙ্গে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও একই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইসরায়েলের যুদ্ধে জড়ানোর কোনো আগ্রহ নেই। সীমিত সংঘাত ইরানি শাসনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়াই শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ইসরায়েলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের সেতুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির পরিবহন ও বাণিজ্য ব্যবস্থা বড় ধাক্কা খেয়েছে। এক সূত্রের জানায়, ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত এটি দেশটির সরকারকে আরও দুর্বল করবে।
গত জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যের কারণে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। ইসরায়েলের মতে, অর্থনৈতিক দুর্বলতাই ইরানি সরকারের অন্যতম বড় সংকট।
এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বাড়ার এবং ইসরায়েলকে যুদ্ধে টেনে আনার সম্ভাবনা সাম্প্রতিক দিনে বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তেলআবিব।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের একটি অংশ কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কাজ করছে, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত না হয়।
আরেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, যদি শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল যুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে তাদের প্রধান লক্ষ্য হবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো।
তার মতে, এসব লক্ষ্যবস্তু যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। তবে এগুলোর ওপর হামলা উপসাগরীয় দেশগুলো ও বৈশ্বিক তেলের বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। এ কারণেই এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এমন ঝুঁকি নিতে চায়নি।
এদিকে নেতানিয়াহু কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের চেষ্টা করছেন। তবে এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযান শুরুর আগে দুই নেতার সর্বশেষ মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল, যদিও এরপর তারা নিয়মিত ফোনে কথা বলেছেন।
একটি সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা বিবেচনা করছেন নেতানিয়াহু। সেই সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।