

হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে শত্রুপক্ষকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ৫ শতাধিক গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানের পুলিশ। ইসরায়েলি ও মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো যখন ইরানের অভ্যন্তরে নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে, ঠিক সে সময়েই এই গণগ্রেপ্তারের খবর সামনে এলো।
স্থানীয় সময় রোববার (১৫ মার্চ) ইরানের পুলিশ প্রধান আহমাদরেজা রাদান জানান, গ্রেপ্তারদের অর্ধেকই অত্যন্ত গুরুতর ঘটনার সঙ্গে জড়িত। খবর রয়টার্স
তিনি বিস্তারিত সময় উল্লেখ না করে বলেন, ‘এদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন যারা হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে তথ্য দিয়েছেন এবং কেউ কেউ হামলার স্থানের ভিডিও চিত্র ধারণ করে শত্রুপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন।’
এর আগে ইরানি গণমাধ্যমগুলো রোববার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছিল। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ইরান থেকে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাদেশিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনার অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য ইসরায়েলের কাছে পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ইরান, যা এখন পর্যন্ত বিমান হামলা থেকে অনেকটা সুরক্ষিত রয়েছে, সেখান থেকেও ১০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে তাসনিম। তাদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। রেভল্যুশনারি গার্ডসের গোয়েন্দা শাখার একটি প্রাদেশিক শাখা তাসনিমকে জানিয়েছে, ‘জায়নবাদী শত্রু (ইসরায়েল) ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরান আক্রমণের চেষ্টা করছে, তখন তারা একইসঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দাঙ্গা সৃষ্টির জন্য ভাড়াটে সৈন্য ও গুপ্তচরদের সক্রিয় করছে।’
এছাড়া স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, পশ্চিমের লরেস্তান প্রদেশে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং শোকের প্রতীক পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে রয়টার্সকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলি সামরিক কৌশল সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ের তথ্যদাতাদের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ইসরায়েল এখন নিরাপত্তা চেকপোস্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করেছে, যা ইরানের ওপর তাদের আক্রমণের একটি নতুন পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।