কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

ইরানের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হামলায় উদ্বুদ্ধ করেছিল আমিরাত

গালফ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
গালফ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা চালাতে সৌদি আরব ও কাতারকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল। যদিও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শুক্রবার (১৫ মে) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়ার পরপরই ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ করেন। এর মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ছিলেন।

আলোচনার সময় তিনি উপসাগরীয় নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৮১ সালে গঠিত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) মূলত ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান থেকে উদ্ভূত হুমকির প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জিসিসির সদস্য দেশগুলো হলো বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং ইউএই।

এমবিজেড নামে বেশি পরিচিত আমিরাতের প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানকে ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার পথ বেছে নেন। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য উপসাগরীয় নেতারা তাকে জানান, এটি তাদের যুদ্ধ নয়।

দেশগুলো এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার আগের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত আমিরাত অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে কয়েকটি সীমিত হামলা চালায়। এর ধারাবাহিকতায় প্রথমে মার্চের শুরুতে এবং পরে এপ্রিল মাসে হামলা হয়।

সৌদি আরব মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালালেও পরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার দিকে ঝুঁকে পড়ে। পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় আমিরাতের কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট ছিলেন। এপ্রিলের শুরুতে আবুধাবি ইসলামাবাদকে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণের মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সৌদি আরব হস্তক্ষেপ করে পাকিস্তানকে ঋণের একটি অংশ পরিশোধে সহায়তা করে।

এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইরান কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে হামলা চালানোর পর কাতারও সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। রাস লাফান বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনা। তবে শেষ পর্যন্ত দোহা সামরিক পদক্ষেপ না নিয়ে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগে মনোযোগী হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইন ও কুয়েত এই সংঘাতে জড়ায়নি। আর ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে ওমানকে পাল্টা হামলায় অংশগ্রহণের জন্য বাস্তবসম্মত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কমছে বাংলাদেশি পাসপোর্টের সক্ষমতা, ভিসা সুবিধায় উগান্ডার চেয়ে অনেক পিছিয়ে

ইস্তাম্বুলের অলিগলিতে আধুনিকতার ছোঁয়া: মেট্রো পাল্টে দিয়েছে শহরের চিত্র

আর্জেন্টিনাকে স্পেনের হারানোর ম্যাচটি দেখেছেন ৬৩ মিলিয়ন মানুষ

গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, ব্যাখ্যা দিলেন শিশির মনির

জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি বহুল আলোচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত: চরমোনাই পীর  

আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মোটরসাইকেল-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পরীক্ষার্থী নিহত

রজার্সকে কিনতে ট্রান্সফার ফির যে রেকর্ড ভাঙল চেলসি

ইরানের ৪ ড্রোন ভূপাতিত করল জর্ডান

১০

মাদ্রাসাছাত্রকে রড দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন, শিক্ষক আটক

১১

বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের কণ্ঠ খুঁজছে ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’

১২

জাবি মেডিকেলে ওষুধ কারচুপি ও অব্যবস্থাপনার তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

১৩

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

১৪

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইল চিটাগং চেম্বার

১৫

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

১৬

দুই মাসের মধ্যে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে: হাইওয়ে পুলিশপ্রধান

১৭

এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার আশ্চর্যজনক ৪ উপকারিতা

১৮

এমপি পদ হারানো নিয়ে কী বলছে সংবিধান?

১৯

বরিশালের গল্পে জামিল-মুনমুনের নাটক ‘আজব শহর’

২০
X