

কোনো রাজনৈতিক দল তার কোনো সংসদ সদস্যকে (এমপি) দল থেকে বহিষ্কার করলে ওই এমপির সংসদ সদস্য পদ বাতিল বা শূন্য হবে না।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেউ যদি দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেন, কেবল তখনই তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে। সুতরাং, দল থেকে বহিষ্কারের পর এমপি পদ হারানোর কোনো সাংবিধানিক বা স্বয়ংক্রিয় বিধান নেই।
এছাড়া, সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকা না থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। কোনো ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া বা সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার কারণে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কোনো বিধান সংবিধানে নেই বলেও মত তাদের।
আইন অনুযায়ী, দল থেকে বহিষ্কারের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন। কারণ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দল থেকে বহিষ্কারকে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
আইনজীবীদের মতে, গাজী নজরুল ইসলাম যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তাহলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। এ ছাড়া কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে তিনি যদি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হন, তখন তার সদস্য পদ নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ সদস্য পদ টিকে থাকা বা বাতিল হওয়ার বিষয়টি দলীয় সিদ্ধান্তের চেয়ে সাংবিধানিক বিধানের ওপর নির্ভর করে। ফলে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার হলেও গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ আপাতত বহাল থাকবে। তবে ভবিষ্যতে তিনি দলীয় পদত্যাগ, সংসদীয় আচরণ বা আদালতের রায়ের মাধ্যমে অযোগ্য হলে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।