

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর চলমান সংঘাতের মধ্যে জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় এক শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) এবং সার্বিয়া কর্তৃপক্ষ।
মার্চে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এ নিয়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে মোতায়েন করা জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষী বাহিনীর সাতজন নিহত হলেন।
ইউএনআইএফআইএল এক বিবৃতিতে জানায়, বুধবার রাতে তার অবস্থানস্থলে মর্টারের গোলা আঘাত হানার পর গুরুতর আহত হওয়া এক শান্তিরক্ষী বৃহস্পতিবার ভোরে মারা গেছেন। একই ঘটনায় আরও দুই শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জাতীয় কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ বাহিনী।
সার্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত শান্তিরক্ষীর নাম সিনিয়র সার্জেন্ট মিলোভান ইয়োভানোভিচ। আহত হওয়ার পর ঘাঁটির ভেতরের হাসপাতালে তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে হেলিকপ্টারে করে বৈরুতের একটি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ইউএনআইএফআইএলের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০টি দেশের অংশগ্রহণে গঠিত সাড়ে সাত হাজার সদস্যের বাহিনীতে সার্বিয়ার প্রায় ১৭০ শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।
শান্তিরক্ষীরা দক্ষিণ লেবাননে ব্লু লাইন নামে পরিচিত লেবানন-ইসরায়েল বাস্তব সীমান্তের কাছাকাছি মোতায়েন রয়েছেন। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত এলাকাই বর্তমানে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইউএনআইএফআইএল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বাহিনীটি বলেছে, এই সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।
গত মার্চের শেষ দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাতিসংঘের ঘাঁটিতে আঘাত হানলে এক ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং আরেকজন পরে হাসপাতালে মারা যান। প্রাথমিক জাতিসংঘ তদন্তে ওই হামলার জন্য একটি ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাকে দায়ী করা হয়েছিল।
এর কিছুদিন পর আরও দুই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী একটি তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক যন্ত্রের (আইইডি) হামলায় নিহত হন। জাতিসংঘের একই তদন্তে ধারণা করা হয়, বিস্ফোরকটি সম্ভবত হিজবুল্লাহ পুঁতে রেখেছিল।
এপ্রিল মাসে আরও দুই ফরাসি শান্তিরক্ষী এক হামলায় নিহত হন। ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘ ওই হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করলেও সংগঠনটি সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, চলতি বছরের শেষে ইউএনআইএফআইএলের বর্তমান ম্যান্ডেটের মেয়াদ শেষ হলেও লেবাননে শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রয়োজন থাকবে। তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
সূত্র : আরব নিউজ ও আলজাজিরা