

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সমন্বয় দিন দিন আরও বাড়ছে এবং দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এ যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, আমাদের প্রিয় সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগের মাত্রা প্রতিদিনই বাড়ছে এবং সরাসরি আলোচনার সুযোগ অধিকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের গৃহীত সমস্ত প্রশাসনিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ তারই দেওয়া দিকনির্দেশনা এবং পরামর্শের ভিত্তিতে সুবিন্যস্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তার দিকনির্দেশনায় দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে এই যোগাযোগ আরও বাড়ানো উচিত। আশা করছি তার প্রদত্ত পথনির্দেশনাকে পাথেয় করেই আমরা পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তার সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্চ মাসে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে এখন পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেননি। পডকাস্টার জাভাদ মোগুইয়ের সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল যে নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, সেই দুর্বলতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়।
এর আগে রয়টার্স এপ্রিল মাসে ৩টি সূত্রের বরাতে জানায়, ওই হামলায় মোজতবা খামেনি মুখ ও পায়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি চলতি মাসে তার বাবার রাষ্ট্রীয় জানাজা ও গণশোকানুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং যুদ্ধকালীন ইরানি নেতৃত্বে তার প্রভাব নিয়ে এখনো নানা জল্পনা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য এ বিষয়ে নতুন কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।