

বাব আল-মান্দেব ঘিরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হুমকি জ্বালানি বাজারের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি বলছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক তেলের বাজার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। খবর রয়টার্সের।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি হরমুজ প্রণালির বিকল্প নৌপথ হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আইইএর মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের উদ্ভূত হুমকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বিদ্যমান উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, সদস্য দেশগুলোর জরুরি তেল মজুত থেকে তেল ছাড়ার কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বাজারে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি মিলছে।
আইইএর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ কৌশলগত মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে সদস্য দেশগুলো।
এদিকে গতকাল ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই ঘোষণা দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
চহুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে।
সারি অভিযোগ করেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর অব্যাহত অবরোধ অগ্রহণযোগ্য এবং এটি আর মেনে নেওয়া হবে না।
এর আগে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব বন্ধ করতে প্রস্তুত থাকতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদেরকে নির্দেশ দেয় তেহরান। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে হুতিদের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুইজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক এক সূত্র পরিচয় গোপন রাখার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি হুতিদের এই প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই বন্ধ থাকায় বাব আল-মান্দেবেও অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান জ্বালানি রপ্তানি পথ একযোগে কার্যত অচল হয়ে পড়বে। এতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।