

জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। সোমবার (২০ জুলাই) পেন্টাগনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান (২৫) এবং প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস (১৯)। গত শুক্রবার জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় তারা নিহত হন। খবর সিএনএনের।
টেক্সাসের ক্যারোলটনের বাসিন্দা গনজালেস শুক্রবারই নিহত হন। অন্যদিকে হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচে সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও মূলত জর্জিয়ায় বসবাসকারী ফিহান শনিবার মারা যান বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা দপ্তর।
সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিহানের বাবা-মা স্টিফেন ও শারি ফিহান বলেন, ছেলের মৃত্যুতে তারা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। মোতায়েন শেষে দেশে ফিরে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
তারা বলেন, আমরা চাই আমেরিকা এবং বিশ্ব জানুক, টাইলার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পূর্ণভাবে উপভোগ করেছে। মাত্র ২৫ বছরেই সে এমন অনেক কিছু অর্জন করেছে, যা অনেক মানুষ সারাজীবনেও করতে পারেন না।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করেছিল। পেন্টাগন জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের হামলায় ওই দুই সেনা নিহত হন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হামলায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন। তাদের মধ্যে চারজনকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা দপ্তর।
শনিবার প্রথম এই দুই সেনার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। মার্চের পর ইরানি হামলায় এটিই প্রথম মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা।
এদিকে রোববার পেন্টাগন জানায়, ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করার সময় আরেক মার্কিন সেনা নিহত হন। একই সঙ্গে জর্ডানে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত এক সেনার মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, নিহত চার সেনাসদস্যের মরদেহ বুধবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গ্রহণ করা হবে। এর ফলে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।
গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরের অস্থায়ী অপারেশন কেন্দ্র লক্ষ্য করে ইরানের সরাসরি হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর রিজার্ভ বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হন। কয়েক দিন পর সৌদি আরবে হামলায় আহত হয়ে আরও এক সার্জেন্টের মৃত্যু হয়।
এছাড়া ১২ মার্চ পশ্চিম ইরাকে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয় সেনা নিহত হন। তবে ওই দুর্ঘটনা শত্রুপক্ষ বা মিত্রবাহিনীর হামলার কারণে ঘটেনি বলে জানিয়েছিল পেন্টাগন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার নিহত সেনাদের প্রসঙ্গে বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা এমন ঘটনা দেখতে চাই না। তারা নিজেদের দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।