

আগের দুই কার্যদিবসের পতনের ধারা কাটিয়ে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দামের পাশাপাশি বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার আগ্রহ বেড়েছে। তবে অনেকে শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রাখছেন। ফলে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক। অনেক বিনিয়োগকারী এরই মধ্যে ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তুলে নিয়েছেন। এখন অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে শেয়ার কিনে রাখছেন, যাতে পরে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৮১টির দাম বেড়েছে, ১৩৮টির কমেছে এবং ৭৪টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭২টির দাম কমেছে এবং ৩৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৮টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে চারটির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় আট পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২১১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক দুই পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এ ছাড়া বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় এক পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৯৭০ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৭৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭২৬ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৫০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের ২৪ কোটি ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২৩ কোটি ০৬ লাখ ৮১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক।
এ ছাড়া, ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম, মুন্নু সিরামিক, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড, ভিএফএস থ্রেড ডাইং এবং শাইনপুকুর সিরামিকস।
শেয়ারের দাম বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল আরডি ফুড লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় ২য় স্থানে থাকা ভিএফএস থ্রেড ডাইংয়ের ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ৩য় স্থানে থাকা এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারের দাম ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে।
তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো—প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, টেকনো ড্রাগস, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, শাইন পুকুর সিরামিকস, আইসিবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান: স্কিম ওয়ান, নাহি অ্যালুমিনিয়াম ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।
গতকালের লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকা ব্যাংক। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে ছিল সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলস লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড। কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে কমেছে।
দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো—মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, এসএস স্টিল এবং ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এর পরও বেড়েছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯২টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৮২ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।