

বাগেরহাটের ফকিরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে কৃষক দল নেতা আনিসুর রহমান বাদল (৪০) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের নিয়তির মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বুধবার (১০ জুন) সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর ১৭ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ৩টা) থানায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম।
নিহত আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল বাগেরহাট সদর ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মৃত জাফর মোড়লের ছেলে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আব্দুল্লাহ মোড়ল। তিনি একই গ্রামের মৃত নুর ইসলাম মোড়লের ছেলে। তিনি বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
কৃষক দলের সভাপতি আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল খুনের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি, সহযোগী ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হত্যার প্রতিবাদে বারইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কালো ব্যাচ ধারণ ও বেলা ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বাদ আসর স্থানীয় আড়পাড়া স্কুল মাঠে নিহতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বাগেরহাট সদর উপজেলা থেকে বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান বাদল মোড়ল ও আব্দুল্লাহ মোড়ল ভ্যানযোগে ফকিরহাট যাচ্ছিলেন। এ সময় মূলঘর ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের নিয়তির মাঠ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত ৭/৮ জনের একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের এলোপাথাড়ি কোপ ও ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়লের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহ মোড়লকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক ডা. সুকান্ত ম-ল।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত মো. বাদল মোড়লের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু করেছে।
জেলা বিএনপি নেতা খান মনিরুল ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বারুইপাড়া ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় ১১ জন বিএনপি নেতাকর্মী গুরুতর জখম হয়েছিল। আবারও এই হামলা পূর্ব পরিকল্পনার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখতে আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।