কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জানালেন আইনজীবী

যেসব কারণে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা

নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা। ছবি : সংগৃহীত
নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ পাঁচ বছর তিন মাসের আইনি লড়াই শেষে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, বৈধ তালাক ছাড়াই বিয়ে, ব্যভিচার এবং মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এ রায় দেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আনা অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানান, আদালতের সিদ্ধান্তে এখন আর নাসির ও তামিমার বিয়েকে অবৈধ বলার কোনো সুযোগ নেই। আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তামিমা সুলতানার আগের স্বামী রাকিব হাসানকে দেওয়া তালাকের বৈধতা। আদালত এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের একটি রায়ের আলোকে পর্যবেক্ষণ দেন।

এ বিষয়ে আদালতের বরাতে নাসির-তামিমার আইনজীবী বলেন, ‘বিচারক কিছু ফাইন্ডিংস পড়ে শুনিয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের একটি রায়; যে রায়ে বলা আছে, তালাকনামার নোটিশ কোনো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে না পৌঁছানোর মানে এই নয় যে—তালাক হয়নি।’

‘উচ্চ আদালতের সেই রায় অনুসারে পর্যবেক্ষণে আদালতের বিচারক বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক হলে সেই তালাকের পর তারা আলাদা বা একসঙ্গে থাকবে কি না তাদের আচরণ বা কন্ডাক্টই মূল বিষয়,’ যোগ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলার সাক্ষ্য পর্যালোচনায় আদালত বলেছেন—ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ের আগে ২০১৬ সালে তামিমা সুলতানা তার আগের স্বামী রাকিব হোসেনকে তালাক দিয়ে সৌদি আরব গিয়েছেন। ২০২১ সালে এসে নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তামিমা কতদিন বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন কিংবা রাকিবের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবস্থা কী ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।’

রায়ের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে নাসির তামিমার আইনজীবী আরও বলেন, ‘উপরন্তু নাসির-তামিমার আইনজীবীর জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেছিলেন, তামিমা সুলতানা তালাক দেওয়ার পর নাসিরের সঙ্গে বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে কতদিন তিনি বাংলাদেশে থেকেছেন জানেন না।’

মামলায় তামিমার তালাকনামাকে জাল বলে দাবি করা হলেও সেই অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণের বরাতে নাসির-তামিমার আইনজীবী বলেন, ‘অভিযোগে বলা হয়েছে তালাকনামা জাল। এ বিষয়ে আদালত জানিয়েছেন—একটি তালাকনামার মূল কপি যদি জব্দ করা হয় এবং প্রদর্শিত হয়; তখন সেটা জাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। অধিকন্তু পোস্টাল মাধ্যমে তালাকের যে নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই পোস্টাল নিশ্চিতকরণে মূল জব্দ করা হয়েছে এবং তালাকনামা বা পোস্টাল রিসিট জাল বলতে গেলে এরকম আরেকটি কপি থাকতে হবে।’

‘আদালত আরও বলেছেন, পোস্টাল রিসিটে পোস্টাল অফিসের যে কর্মকর্তার স্বাক্ষর আছে সেই স্বাক্ষরও বাদীপক্ষের থেকে জাল দাবি করা হয়নি। কিংবা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেনি, এই স্বাক্ষর জাল,’ যোগ করেন আইনজীবী আজিজুল।

শেষে তিনি বলেন, ‘এর ফলে আদালত এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়ে ফাইন্ডিংস দেন, তামিমা সুলতানা তার আগের স্বামীকে যথাযথভাবে তালাক দিয়ে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।’

এসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, তামিমা সুলতানা তার আগের স্বামীকে যথাযথভাবে তালাক দিয়েই নাসির হোসেনের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছেন। ফলে তাদের বিয়েকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামিমা ও নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে তিনি পুরো ঘটনা সম্পর্কে অবগত হন।

বাদীপক্ষের দাবি ছিল, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থাতেই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবৈধ। পাশাপাশি নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় রাকিব ও তার কন্যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে কয়েক বছর ধরে আলোচিত এই মামলার আইনি অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কোন পেশার মানুষ সবচেয়ে দ্রুত চাকরি ছাড়েন?

তামিমার সাবেক স্বামীর প্রতিক্রিয়া / তারা অত্যন্ত ক্ষমতাধর, বড় বড় জায়গায় লিংক আছে

আন্তর্জাতিক বাজারে ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম

খালাস পেয়ে নাসির হোসেনের প্রতিক্রিয়া

পটুয়াখালীতে মদ পানের ভিডিও ভাইরাল

নাসির-তামিমার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বাদীপক্ষ

যে ৩ সমীকরণে বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো 

পুশইন ও সীমান্ত হত্যা ইস্যু / সীমান্তবর্তী সব জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১১ দল

নো ম্যান্স ল্যান্ডে বৃদ্ধকে রেখে গেল বিএসএফ

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : কওমি শিক্ষাধারার উন্নয়নে বরাদ্দ হোক

১০

ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

১১

মশা মশার কাজ করছে, আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করছেন তো? প্রশ্ন গাজীপুরের ডিসির

১২

চলো এগিয়ে যাই, আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে : মেসি

১৩

পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ২ ভাইয়ের

১৪

৬ নবজাতকের মৃত্যু : আদ্-দ্বীনের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার

১৫

জানালেন আইনজীবী / যেসব কারণে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা

১৬

অদক্ষতার মূল্য দিচ্ছে মানবতা / কূটনীতির ব্যর্থতাই যুদ্ধের জন্ম দেয়

১৭

বিশ্বকাপের সেরা জার্সির তালিকায় শীর্ষে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের অবস্থান কোথায় 

১৮

‘হাতুড়ি বাহিনীর’ প্রধান মাজহারুল গ্রেপ্তার

১৯

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১২

২০
X