

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস প্রথমবারের মতো চীন সফর করেছেন। এ সফরের মূল লক্ষ্য বাণিজ্য সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করা। গতকাল বুধবার তিনি বেইজিং যান। খবর আলজাজিরার।
বেইজিংয়ে ফ্রিডরিখ মের্ৎস চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। মের্ৎস বলেন, জার্মানি চীনের সঙ্গে বহু দশকের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তির ওপর এগোতে চায়। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সহযোগিতা যেন ন্যায্য হয় এবং যোগাযোগ খোলা ও স্বচ্ছ থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জার্মান চ্যান্সেলর আরও বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট উদ্বেগ আছে। আমরা সেগুলো উন্নত করতে চাই এবং আরও ন্যায্য করতে চাই।’
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠকে বসেন দুই নেতা। সেখানে লি কিয়াং বলেন, উভয়পক্ষের উচিত বহুপক্ষীয়তা ও মুক্তবাণিজ্য রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির দিকে ইঙ্গিত করেন। এই নীতি বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করেছে।
লি বলেন, ‘চীন ও জার্মানি বিশ্বের দুটি বৃহৎ অর্থনীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী দেশ। আমাদের সহযোগিতায় আস্থা জোরদার করতে হবে। যৌথভাবে বহুপক্ষীয় ও মুক্তবাণিজ্য রক্ষা করতে হবে। এবং আরও ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেষ্টা করতে হবে।’ আগামী মাসগুলোয় তার সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী চীন সফর করবেন বলেও ঘোষণা দেন। গত বছর চীন থেকে জার্মানির আমদানি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১৭০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, যা প্রায় ২০১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে চীনে জার্মানির রপ্তানি ৯ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৮১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে, যা প্রায় ৯৬ বিলিয়ন ডলার।
এই সফরের অংশ হিসেবে মের্ৎসের চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় একের পর এক পশ্চিমা নেতা বেইজিং সফর করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।