মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। ছবি : কালবেলা
পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। ছবি : কালবেলা

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের অন্তত চারটি গ্রাম আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাত থেকে শুরু হওয়া ঢলে ভান্ডারুয়া, জামালপুর, লৌহাদ, এক্তিয়ারপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ পানির নিচে চলে যায়। এতে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে সিমনা ছড়ার একটি অংশ ভান্ডারুয়া এলাকায় ভেঙে যায়। ফলে রাতারাতি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ভান্ডারুয়া গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবির বলেন, রাতের মধ্যে হঠাৎ করে পানি বেড়ে যায়। অনেক পুকুর ভেসে গেছে, মাছ বের হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

জামালপুর গ্রামের গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, ঘরের চারপাশে পানি। চুলা ডুবে যাওয়ায় সকাল-বিকাল রান্না করতে পারিনি। অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষক আব্দুল কাদির জানান, আমার আউশ ধান, শাকসবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক মাসের পরিশ্রম এক রাতেই শেষ হয়ে গেল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢলের পানিতে কয়েকশ একর আউশ ধান, মৌসুমি শাক-সবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি অনেক পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বেশ কয়েকটি কাঁচা ও মাটির তৈরি বসতঘর আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ হোসেন চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।

ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নাফ বলেন, সিমনা ছড়ার অংশ ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে এবং রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নূর মামুন বলেন, পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার আউশ ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

বেরোবি ও বিসিকের ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন

মৌসুমি বায়ু সক্রিয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস

‘১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, ৮০ হাজারই হবেন নারী’

ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন / বিশ্বকাপ আসতেই কেন সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন বাংলাদেশি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তরা

মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মাদ্রাসা শিক্ষকসহ নিহত ২

টিকটকে পরিচয়, একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত দুই তরুণীর

শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে ইরানে কাতারের প্রতিনিধিদল

বিশ্বকাপে জিতেছে, মিরপুরে কি পারবে অস্ট্রেলিয়া?

ঘুরতে নিয়ে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রেমিকসহ আটক ৩

১০

সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১১

থানার ব্যারাকে পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু, কী লিখে গেলেন চিরকুটে

১২

স্থায়ী জামিন পেলেন মুফতি আমির হামজা

১৩

বেনজীরের গ্রেপ্তার ইস্যুতে সংসদকে অবহিত করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৪

শূন্যরেখায় ৯ নাগরিক / বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান

১৫

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে ‘অতি দ্রুত’ দেশে আনা হবে

১৬

লিটন-তাওহীদ-মোসাদ্দেকের ফিফটিতে অজিদের বড় টার্গেট দিল টাইগাররা

১৭

শাকিবকে দেখে পূর্ণিমার আক্ষেপ, ‘এই লুকটা আগে কোথায় ছিল!’

১৮

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হলেন বেনজীর

১৯

আত্মসমর্পণ করলেন আমির হামজা

২০
X