

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ২১ ঘণ্টা ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়েছে। ৪৭ বছরের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি প্রথম আলোচনা। গতকাল রোববার সকালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে কোনো সমঝোতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য উভয়পক্ষ পরস্পরকে দুষছে। এতে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কেন ব্যর্থ হলো এ ঐতিহাসিক বৈঠক? এনডিটিভি ও মিডল ইস্ট আই এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে।
বৈঠক শেষে জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনা ভেস্তে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ‘খারাপ খবর’। তিনি জানান, তারা একটি চূড়ান্ত ও শ্রেষ্ঠ প্রস্তাব দিয়ে এসেছেন এবং এখন দেখার বিষয় ইরান সেটি গ্রহণ করে কি না। ভ্যান্সের মতে, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পাওয়া, যা এখনো অর্জিত হয়নি।
তিনি আরও জানান, ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এ আলোচনায় তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন। তবে ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে কিছুটা নির্ভার ছিলেন। মিয়ামিতে একটি কুস্তি প্রতিযোগিতায় (ইউএফসি) যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলো কি না, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।’
ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, তেহরান মনে করছে এখন ‘বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে’। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ‘যৌক্তিক প্রস্তাব’ দিলেও ওয়াশিংটন তা গ্রহণ করেনি। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা ছিল; কিন্তু আগের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে আমরা প্রতিপক্ষকে বিশ্বাস করতে পারছি না।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও গভীর অবিশ্বাসের পর মাত্র এক রাউন্ডের আলোচনায় সব মিটে যাবে—এমনটা ভাবা অবাস্তব। তিনি জানান, কিছু বিষয়ে দুপক্ষ একমত হলেও দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো গভীর মতভেদ রয়েছে।
আলোচনায় মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগে তেহরানের অস্বীকৃতি। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া শর্ত না মানলে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এবং ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং দুপক্ষকেই যুদ্ধবিরতি বজায় রেখে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দুপক্ষকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। পাকিস্তান এ সংলাপ চালিয়ে যেতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
আপাতত পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য কোনো তারিখ বা স্থান নির্ধারিত হয়নি। তবে উভয়পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে কূটনীতির পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
ট্রাম্পের এখন পরিকল্পনা কী: ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে বা তেহরান হরমুজ প্রণালি ফের খুলতে অস্বীকৃতি জানালে বিকল্প পরিকল্পনা কী আছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো দ্বিতীয় পরিকল্পনা নেই।
আলোচনার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আপনার দ্বিতীয় পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। তাদের সামরিক বাহিনী পরাজিত হয়েছে। আমরা সবকিছু একীভূত করেছি। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কমে গেছে। তাদের উৎপাদন ক্ষমতা খুবই কম। আমরা তাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত হেনেছি। আমাদের সেনাবাহিনীর অসাধারণ, তারাই আসল কাজটা করেছে।