

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্চের শেষদিক থেকে বারবার দাবি করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি শিগগির সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। তবে দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে তার ধারাবাহিক আশাবাদী বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুবই অগ্রসর পর্যায়ে’ রয়েছে এবং চুক্তি সম্পন্ন করতে মাত্র দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। কিন্তু সে সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চের শেষদিক থেকে জুনের শুরু পর্যন্ত অন্তত ৩৭ বার তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, চুক্তি আসন্ন বা ইরান সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।
প্রথম দিকে ট্রাম্প দাবি করেন, আলোচনায় প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হয়ে গেছে। ২৩ মার্চ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রায় সব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।’ কিন্তু তখন ইরান এমন কোনো আলোচনার অস্তিত্বই অস্বীকার করেছিল। পরবর্তী কয়েকদিনে তিনি আরও বলেন যে, ইরান চুক্তি করতে ‘মরিয়া’, ‘মনেপ্রাণে আগ্রহী’ এবং এমনকি ‘চুক্তি ভিক্ষা চাইছে’।
২৯ মার্চ ট্রাম্প জানান, তিনি আগামী সপ্তাহে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। এরপর ৬ ও ৭ এপ্রিল তিনি বলেন, দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ইঙ্গিত দেন। এপ্রিলজুড়ে ট্রাম্প একই ধরনের বক্তব্য দিতে থাকেন। তিনি বলেন, বিষয়টি ‘প্রায় শেষ’, ইরান ‘খুব খারাপভাবে’ চুক্তি করতে চায় এবং ‘এক-দুই দিনের মধ্যেই’ সমঝোতা হতে পারে।
মে মাসের মাঝামাঝি ট্রাম্প স্বীকারও করেন যে, অতীতে তার আশাবাদী মূল্যায়ন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ জুনেও ট্রাম্প একই অবস্থান বজায় রেখেছেন। কিন্তু মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এমন আশাবাদী বক্তব্য দেওয়া সত্ত্বেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।