

অনেকেই মনে করেন বুদ্ধিমত্তা মানেই কেবল গাণিতিক দক্ষতা বা ভালো রেজাল্ট। কিন্তু মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, নিজের এবং অন্যের আবেগ বুঝতে পারা ও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারার নামই হলো 'আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা' বা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বহু আগেই বলেছিলেন, রাগ করা সহজ, কিন্তু সঠিক মানুষের ওপর, সঠিক সময়ে এবং সঠিক উদ্দেশ্যে রাগ করতে পারাটাই আসল দক্ষতা।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা ইকিউ বেশি, তারা কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত জীবনে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি সফল হন। আপনি কি বুদ্ধিমান নাকি কেবলই আবেগপ্রবণ, তা আপনার নিচের ৭টি অভ্যাস থেকেই বোঝা সম্ভব:
১. নিজের সম্পর্কে সচেতনতা
ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আত্ম-সচেতনতা। বুদ্ধিমান মানুষ নিজের মেজাজ, অনুভূতি এবং আবেগ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে সচেতন থাকেন। শুধু তাই নয়, নিজের আবেগ অন্যের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে, সে সম্পর্কেও তারা সজাগ থাকেন। এই অভ্যাসটি একজন মানুষকে আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে রক্ষা করে।
২. সহমর্মিতা বা এম্প্যাথি
অন্যের মনের অবস্থা বুঝতে পারার ক্ষমতাকে বলা হয় এম্প্যাথি। বুদ্ধিমান মানুষ কেবল নিজের আবেগ নিয়ে পড়ে থাকেন না, বরং কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকর্মীদের বা বন্ধুদের মনের অবস্থা আঁচ করতে পারেন। সহকর্মী কোনো কারণে মন খারাপ করে থাকলে তার সাথে কেমন আচরণ করতে হবে, তা তারা ভালো বোঝেন।
৩. আত্ম-নিয়ন্ত্রণ
আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তিরা আবেগ দ্বারা চালিত না হয়ে বরং আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা কোনো কাজ করার আগে বা কিছু বলার আগে চিন্তা করেন। আবেগ অনুভব করা ভালো, কিন্তু আবেগের বশবর্তী হয়ে জীবন পরিচালনা না করাই হলো প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
৪. লক্ষ্য অর্জনে প্রেরণা
যারা আবেগীয়ভাবে বুদ্ধিমান, তারা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিজের আচরণ ও অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন [৯]। নতুন কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তারা হয়তো কিছুটা চিন্তিত হন, কিন্তু ভয়কে জয় করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাদের থাকে।
৫. সামাজিক দক্ষতা
এ ধরণের মানুষের সামাজিক দক্ষতা বেশ প্রবল হয়। তারা অন্যের সাথে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারেন এবং সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখাতে বিনিয়োগ করেন। অন্যের সাফল্যে তারা যেমন খুশি হন, তেমনি অন্যদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন।
৬. আবেগ প্রকাশের সঠিক ধরণ
অনেকেই আবেগ অনুভব করলেও তা সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ জানেন কোন আবেগ কখন এবং কীভাবে প্রকাশ করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, কর্মক্ষেত্রে খারাপ দিন কাটানোর পর বাড়িতে এসে সঙ্গীর ওপর চিৎকার না করে বরং শান্তভাবে সমস্যার কথা আলোচনা করা এবং পরিস্থিতির উন্নতির পরিকল্পনা করা হলো উচ্চ ইকিউ-এর লক্ষণ।
৭. কারণ খুঁজে বের করার ক্ষমতা
আবেগীয়ভাবে বুদ্ধিমান মানুষ কোনো ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত কারণ খুঁজতে পছন্দ করেন। ধরুন, আপনি কোনো সহকর্মীর ওপর বিরক্ত। আপনি কি সত্যিই তার ওপর বিরক্ত নাকি অন্য কোনো কাজের চাপে আপনি খিটখিটে হয়ে আছেন? এই পার্থক্যটি তারা দ্রুত ধরতে পারেন।
কীভাবে বাড়াবেন নিজের ইকিউ (EQ)?
ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স কোনো জন্মগত বিষয় নয়, এটি চর্চার মাধ্যমে বাড়ানো সম্ভব। প্রতিদিন নিজের অনুভূতি নিয়ে ভাবুন এবং মাইন্ডফুলনেস বা সচেতন ধ্যান অনুশীলন করুন। এছাড়া কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) এবং সোশ্যাল-ইমোশনাল লার্নিং প্রোগ্রামের মাধ্যমেও নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতে শেখা যায়।
তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড