আলী ইব্রাহিম
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

‘আইএমএফের চাপে’ করের বোঝা বাড়ছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা

অর্থনীতি
‘আইএমএফের চাপে’ করের বোঝা বাড়ছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ১৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এরই মধ্যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সংশোধনের নামে নতুন করে জনগণের কাঁধে আরও ৫৫ হাজার কোটি টাকা করের বোঝা চাপাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থ বিভাগের বাজেট শাখা থেকে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও এনবিআর নিজ থেকে আরও ৫১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকার নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপেই রাজস্ব আহরণের নতুন এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, গত ১০ নভেম্বর অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির সভায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হয়। এতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরের দিন অর্থাৎ ১১ নভেম্বর অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ-১ এর অধিশাখা-১ থেকে উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এনবিআরের পাঠানো এক চিঠিতে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন প্রস্তুত করে আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে অর্থ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়। অর্থ বিভাগের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর গত ২০ নভেম্বর ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর বদলে আরও ৫১ হাজার কোটি টাকা বেশি বাড়িয়ে নতুন রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। এই বাড়তি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর ও ভ্যাট অনুবিভাগকে আদায় করতে হবে ৩৭ শতাংশ করে। আর কাস্টম অনুবিভাগ আদায় করবে ২৬ শতাংশ।

নতুন রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগের মহাপরিচালক মো. আবদুল হাকিম কালবেলাকে বলেন, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অর্থবিভাগের ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর নির্দেশনার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘাটতির মধ্যেও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার নামে বিশাল অঙ্কের বাড়তি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনবিআর। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এনবিআর আদায় করেছে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। এই ঘাটতির মধ্যেই রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ না নিয়েই নতুন করে লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছে এনবিআর। যদিও এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা দুবার কমিয়েও ৪২ হাজার কোটি টাকা কম আদায় করেছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন কালবেলাকে বলেন, এনবিআরের পক্ষ থেকে বার বার বলা হয়, বাজেটে এনবিআরের ওপর বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেওয়া হয়। এবার অর্থ বিভাগ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর নির্দেশনার পর সংস্থাটি কীভাবে আরও ৫১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করতে পারে! আমরা সব সময় জেনে আসছি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে অর্থ বিভাগ।

এ ছাড়া রাজস্ব আহরণ হুট করে ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর মতো কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, বাজেটে যে করনীতি বা রাজস্বের হার, তাতে কোনো পরিবর্তন ঘটেছে—তা তো না। জুন মাসে অর্থনীতি সম্পর্কে আমরা যেটা জানতাম, অর্থনীতির অবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে—সেই মূল্যায়নের তো কোনো পরিবর্তন হয়নি যে, চার-পাঁচ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হবে। এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা যে পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, আমি তো কোনো নীতির দিক থেকে কোনো ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছি না। এমনিতেই ঘাটতি আছে, সেই অবস্থায় আপনি লক্ষ্যমাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিলেন! প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ভিত্তিতেও এটার কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে আইএমএফের চাপে বাড়ানোর একটি আলোচনা রয়েছে। আর আইএমএফের চাপে করলেও, তারা (আইএমএফ) যখন পরবর্তীতে আসবে, তখন রাজস্ব আহরণ না বাড়লে কোনো জবাব দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া আইএমএফ রাজস্ব বাড়ানোর চাপ দিলেও বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটির আলোচনা করা উচিত ছিল। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বোঝানোর প্রয়োজন ছিল বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

সূত্র আরও জানায়, চলতি অর্থবছরে আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। এ খাতে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ কাস্টমসে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে ১৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা, যা সংশোধন করে ২ লাখ ৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ভ্যাট আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে ২০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। আর আয়করে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়কর খাতেও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে ২০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে নতুন রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মে মাসে সড়কে ঝরল ৬২২ প্রাণ : যাত্রী কল্যাণ সমিতি

এশিয়াওয়ান আশিয়ান সামিট / ‘গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড’ ল্যাবএইড ক্যানসার হাসপাতাল, ‘গ্রেটেস্ট লিডার’ সাকিফ শামীম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ১৫ জন পুশইন, প্রতিহত করল বিজিবি

বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

শিল্পকলার সম্মাননায় আবেগাপ্লুত সৈয়দ আব্দুল হাদী

ভারতের এএন-৩২ বিমান বিধ্বস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৫০

বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতানো সঞ্জয়ের অজানা তথ্য 

গাজীপুরে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

চুক্তিতে ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছেন ট্রাম্প : ইরান

১০

‘দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করবে যুবদলের নতুন নেতৃত্ব’

১১

বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন প্রয়াত কারিনা কায়সার

১২

জয়া আহসানের নতুন সিনেমা মুক্তির ঘোষণা

১৩

আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ

১৪

কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয় যুবক আরিফকে

১৫

বিশ্লেষণ / লেবাননকে পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান

১৬

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী / ‘বিরোধী দলের প্রধান কাজ দেশকে অশান্ত করা’

১৭

টিজারে বিজয় সেতুপতির হুঁশিয়ারি

১৮

সাবেক এমপির মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

১৯

ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশি বেনাপোল দিয়ে ফেরত

২০
X