

বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি। নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ; কিন্তু যৌক্তিক এ দাবি মেনে নেয়নি আইসিসি। একই সঙ্গে বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের সবকটি আবেদনও বাতিল করেছে আইসিসি। অতীত ইতিহাসে যেটা কখনোই দেখা যায়নি। সবদিক থেকে বাংলাদেশকে কোণঠাসা করছে আইসিসি। তাইতো বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে আইসিসিকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা চলমান রেখেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে—এমন অভিমত থেকে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তও নিতে পারে তারা।
বিশ্বকাপে খেলা না খেলার ইস্যুতে গতকাল দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। সেখানে বোর্ডকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পিসিবিকে সমর্থন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৈঠক শেষে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। তাকে আইসিসি সম্পর্কিত বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা সমস্ত বিকল্প খোলা রেখেই এটি সমাধান করি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুক্রবার বা আগামী সোমবার।’
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান কী সিদ্ধান্ত নেবে—সেটাই বিশ্বকাপ ঘিরে আইসিসির জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে। কেননা, পুরো টুর্নামেন্টের লভ্যাংশের বেশিরভাগই নির্ভর করছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ওপর। সেখানে পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ বয়কটের পথে হাঁটে, তাতে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে টুর্নামেন্ট আয়োজক। অবশ্য পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে রাখতে নানাভাবেই চাপ দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে আইসিসির পক্ষ থেকে। এমনকি বয়কটের কারণে কী কী সম্ভাব্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে পাকিস্তান—সেসব খবরও প্রকাশিত হচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম দাবি করছে, নকভির সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে আইসিসির নানা অনিয়মের কথা আলোচনা হয়। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তান ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ পায়নি ভারতের কারণে; শুধু তাই নয়, হাইব্রিড মডেলে করতে গিয়ে আর্থিকভাবেও লাভবান হতে পারেনি তারা। এ ছাড়াও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তোলা দাবিটি যৌক্তিক হলেও আইসিসির স্কটল্যান্ডকে নেওয়াটা অন্যায্য হয়েছে। সেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ শোনেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তান সম্ভাব্য অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে কালো ব্যাজ পরে খেলা, জয়গুলো বাংলাদেশের সমর্থকদের উৎসর্গ করা কিংবা ভারতের সঙ্গে ম্যাচটি না খেলার ভাবনাও আছে তাদের। তবে সরকার পুরো সমর্থন দিলে বিশ্বকাপই বয়কটের পথে এগোবে পাকিস্তান। সেরকম চিন্তাভাবনাই আপাতত পিসিবির।
তবে বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল ঘটনা নতুন নজির গড়েছে। আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে এমনটা দেখা যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীরা। বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হওয়ায় বাংলাদেশি সংবাদকর্মীরা শ্রীলঙ্কাতেই ম্যাচ কাভারের চিন্তাভাবনা করেছিলেন। কিন্তু আইসিসির এমন আচরণ নিশ্চিতভাবেই নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে—তবে কি ভারতের ইশারাতেই হচ্ছে সবকিছু!