শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

পথের কষ্ট পেছনে ফেলে ফিরেছে কোটি মানুষ

ঈদযাত্রা
পথের কষ্ট পেছনে ফেলে ফিরেছে কোটি মানুষ

ভোরের কুয়াশা ভেদ করে বাসস্ট্যান্ডে জমে ওঠা ভিড়, ট্রেনের জানালায় মুখ ঠেকিয়ে থাকা ক্লান্ত চোখ, চেনা রূপে ক্ষণিকের জন্য ফিরে আসা সদরঘাটের হাঁকডাক; আর ফেরিঘাটে দীর্ঘশ্বাস মেশানো অপেক্ষা—সবকিছুর মধ্যেই একটাই সুর, ‘ঘরে ফিরছি’। যে ঘর শুধুই আপনের মমতায় গড়া। প্রিয়জনের ভালোবাসার স্পর্শে আপনে মেশা, ‘সে ঘরে ফিরছি’। বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ ঘিরে আপনজনের কাছে ফেরার এই আকুলতা যেন শহরজীবনের সব ক্লান্তি ধুয়ে দেয়। ব্যস্ত রাজধানী ঢাকা তাই ধীরে ধীরে খালি হয়ে গেল—কয়েক দিনে পথের কষ্ট পেছন ফেলে কোটি মানুষের স্রোত ছুটেছে গ্রামের পথে, শিকড়ের টানে।

ঈদ সামনে রেখে কয়েকদিন ধরেই ঢাকা ছাড়ার হিড়িক শুরু হয়। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে যাত্রীরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন, অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকিট সংগ্রহ করে স্টেশনে এসে অবস্থান নিচ্ছেন।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ ট্রেনে করে ঢাকা ছাড়ছেন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। তবে ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে এখনো যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অনলাইনে টিকিট পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, সড়কপথে যাত্রীচাপ সবচেয়ে বেশি। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছেড়ে যাচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার বাস। তবে কোথাও কোথাও যানজটের কারণে যাত্রাপথ দীর্ঘ হচ্ছে। বিশেষ করে মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে ধীরগতির কারণে ভোগান্তি বাড়ছে যাত্রীদের।

নৌপথেও একই চিত্র। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ঢল নেমেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, অতিরিক্ত লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে; যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

এদিকে ঘরমুখো মানুষের এই চাপ সামাল দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ মনিটরিং চালানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য বলছে, এবারের ঈদে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রামের বাড়িতে যাবে। পাশাপাশি দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আরও প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষের যাতায়াত হবে। সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঈদ কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রেণির লঞ্চে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৩০ লাখ ট্রিপ, হিউম্যান হলারে ৮০ লাখ ট্রিপ, কার ও মাইক্রোবাসে ৬০ হাজার ট্রিপ, দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৩০ লাখ ট্রিপ এবং ঢাকার সিটিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ হতে পারে। এ ছাড়া রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ট্রিপে যাত্রী পরিবহন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা দেশে নেই। একদিকে গণপরিবহন সংকট, অন্যদিকে বিদ্যমান পরিবহনগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

সম্প্রতি বরিশালে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদ ঘিরে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে। তাদের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে ঈদযাত্রায় মহাসড়কের যানজট হতে পারে—এমন ২০৭টি স্পটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাইওয়ে ও ব্রিজেও মনিটরিং করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো জায়গায় যানজট হচ্ছে না, এটা সুসংবাদ। কয়েকটি জায়গায় ধীরগতি হলেও গাড়ি পার হয়ে যাচ্ছে।

বেশিরভাগ মহাসড়কে চাপ থাকলেও ভয়াবহ যানজট নেই: কয়েকটি মহাসড়ক ছাড়া বেশিরভাগেই ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়নি। তবে মহাসড়কগুলোতে গাড়ির চাপ ছিল। ঢাকা-উত্তরাঞ্চল মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়লেও যানজট নেই। সিরাজগঞ্জের যানজটপ্রবণ হাটিকুমরুল মোড়ে গতকালও মোটামুটি স্বস্তির ছিল ঈদযাত্রা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ‘সাসেক-২’ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ‘ক্লোভার লিভস ইন্টার চেঞ্জ ফ্লাইওভার’ পুরোপুরি শেষ না হলেও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগেভাগেই উত্তরাঞ্চলগামী চারটি এবং দক্ষিণাঞ্চলের দিকে আরও দুটিসহ ছয়টি লেন চালু করা হয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর এবং দক্ষিণাঞ্চলের কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনাগামী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে।

সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক মাহবুবুর রহমান জানান, হাটিকুমরুল মোড়ে ৬০০ ওয়াটের ১৪টি ফ্লাডলাইট দেওয়া হয়েছে। ফলে রাতেও গাড়ি চলতে পারছে।

যমুনা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, যানবাহনের চাপ বাড়লেও সেতুর দুই প্রান্তে যানজট নেই।

ঢাকা-উত্তরাঞ্চল মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গায় দেখা গেছে, বাস না পেয়ে অনেকেই খোলা ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি যাচ্ছেন। যানবাহনগুলোতে তেল সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। একই অভিযোগ আছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও।

তবে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরে যাত্রীর চাপ অন্যান্য মহাসড়কের তুলনায় বেশি ছিল গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, মাওনা চৌরাস্তা, ভবানীপুর, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, জৈনা বাজার, নয়নপুরসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা যায়। উত্তরাঞ্চলের প্রবেশপথখ্যাত যানজটের জন্য কুখ্যাত কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড়েও যাত্রীর ভিড় ছিল।

তবে মুন্সীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কেও যানজট নেই। ঢাকা-সিলেটের প্রবেশপথও পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক।

ট্রেনের ভেতর উপচে পড়া ভিড়, ছাদেও যাত্রী: ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে রেলপথেও। গতকাল ভোর থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রী ছাদে উঠে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হয়েছেন।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সাধারণত ছাদে যাত্রী ওঠা বন্ধ রাখতে চেষ্টা করি। কিন্তু যেখানে ১ হাজার আসনের বিপরীতে ৪ হাজার যাত্রী উপস্থিত, সেখানে মানবিক দিক বিবেচনায় অনেক সময় কঠোর হওয়া সম্ভব হয় না। যদিও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’

লঞ্চে যাত্রীর চাপ বেড়েছে, ভোগান্তি কম: সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। গরম ও যানজট উপেক্ষা করে গতকাল সকাল থেকে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে যাত্রা করতে হাজারো যাত্রী ভিড় করছেন এই নৌবন্দরে। ফলে টার্মিনাল এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভিড় বাড়লেও চাপ দেখা যায়নি।

এ ছাড়া নতুন পন্টুন স্থাপন করায় আয়তন ও প্রস্থ বেড়েছে টার্মিনালের। ফলে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে লঞ্চে উঠতে পারছেন। পন্টুনগুলোতে যাত্রীদের তেমন কোনো ভিড় দেখা যায়নি। দূরপাল্লার লঞ্চগুলো বিকেল ৪টা থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে সদরঘাট ছেড়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়েই লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। ঈদে আনন্দের সঙ্গে ঘরে ফেরার এ যাত্রা যেন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়, এটিই এখন সব যাত্রীর প্রত্যাশা।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নৌ-প্রশাসন জানায়, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। বারবার মাইকিং করে নিরাপদে যাত্রার নির্দেশনা দিচ্ছেন।

গাজীপুরে ২০ কিলোমিটার যানজট, বৃষ্টিতে ভোগান্তি বেড়েছে: গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল দুপুরের পর শুরু হওয়া যানজট বিকেলের বৃষ্টির পর তীব্র আকার ধারণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছিল। সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়। বিকেলে বৃষ্টির কারণে যানজট তীব্র হয়। সন্ধ্যায় মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়কে কেন্দ্র করে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দিয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের জিরানি এলাকা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা। বিকেলের পর বৃষ্টি শুরু হলে যানবাহনের গতি আরও কমে যায়।

চন্দ্রা এলাকায় আবুল হোসেন বলেন, ‘রাস্তাজুড়ে শুধু যানজট আর মানুষ। গাড়ি ছেড়ে অটোরিকশায় করে এসেছি, কিন্তু এখানেও একই অবস্থা। অনেকে বৃষ্টির মধ্যে ভিজেই রওনা দিয়েছেন।’

হেমায়েত হোসেন পাবনার সাথিয়া উপজেলায় যাবেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি দুপুরে, কিন্তু গাজীপুরেই আটকে আছি কয়েক ঘণ্টা। বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’

বগুড়ার যাত্রী সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে এমন ভোগান্তি প্রতিবছরই হয়, কিন্তু এবার বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।’

রাজশাহীগামী কলেজছাত্র মাহফুজ রহমান বলেন, ‘সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি পৌঁছানোর কথা ছিল, এখন মনে হচ্ছে রাতভর সড়কেই থাকতে হবে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে গাড়ি একেবারেই চলছে না।’

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘যাত্রীর তুলনায় পরিবহন কম থাকায় চাপ বেড়েছে। এর ওপর বৃষ্টির কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।’

সড়কে শৃঙ্খলা, ঈদযাত্রা স্বস্তির পথে—প্রতিমন্ত্রী টুকু: কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও সমন্বিতভাবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া এসব উদ্যোগের ফলে এরই মধ্যে যানবাহন চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক গতি ফিরে পেয়েছে। গতকাল সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বরিশালের যাত্রীদের: বরিশাল প্রতিনিধি জানান, সম্প্রতি বরিশালের গোমা সেতু উদ্বোধন শেষে সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদ ঘিরে দেশের কোথাও পরিবহনে এক টাকাও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। তবে মন্ত্রীর এমন কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, ঈদ ঘিরে ‘ব্যতিক্রম চাঁদাবাজি’তে মেতেছেন গণপরিবহন মালিক এবং শ্রমিকরা। প্রতি রুটেই যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া।

গতকাল দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্যই উঠে আসে। এ সময় কথা হয় ঢাকা থেকে হানিফ, শ্যামলী, সুগন্ধা, বিএমএফসহ বেশকিছু পরিবহনে বরিশালে আসা যাত্রীদের সঙ্গে। তাদের প্রত্যেকেই অভিযোগ করেছেন ঈদ এবং তেল সংকটের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের।

তারা বলছেন, ঈদের আগে যেখানে সাড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় লোকাল পরিবহনে তারা বরিশালে এসেছেন, সেই ভাড়া ঈদ উপলক্ষে সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। সায়েদাবাদ থেকে এক বাসের টিকিট দিয়ে অন্য বাসে তুলে দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।

যদিও ভাড়া বৃদ্ধির সঙ্গে বাস মালিক বা শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই দাবি করেছেন বাসের চালক এবং সুপারভাইজাররা। তারা জানান, যারা কাউন্টার পরিচালনা করেন তারা মালিকদের কাছ থেকে ঈদ উপলক্ষে বাস ইজারা নিচ্ছেন। তৃতীয় পক্ষই বাস ইজারা নিয়ে বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছে।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, বরিশাল থেকে কোনো প্রকার ভাড়া বাড়ানো হয়নি। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া রাখলে সেই দায়ভার বরিশাল নেবে না। তা ছাড়া বিআরটিএ থেকে এবার বাস বা কাউন্টারে ভাড়ার তালিকাও টানিয়ে দেয়নি বলে দাবি তার।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আফগানিস্তানকেও রুখে দিল বাংলাদেশ

দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নাগরিক

পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সিআইডি প্রধানের পদত্যাগ

যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হলেন নির্যাতিত নেতা সাজিদ হাসান বাবু

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তথ্য পেয়ে চুক্তি ও ঋণপত্র বাতিল, ফেরত যাচ্ছে ‘এমটি মেমেই’

ছবি প্রকাশ করলেন রাশেদ খান / সরকার পতনের পর আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং হান্নান মাসউদের

বজ্রপাতে সারা দেশে প্রাণ গেল ১২ জনের

অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি এনসিপির

দাবি এমপি শওকতুলের / শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান নোবেল পাওয়ার যোগ্য

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেতা আলভীর মা

১০

কোটি টাকার ইয়াবাসহ কোস্টগার্ডের হাতে ৪ জন আটক

১১

২২ বলের ফিফটিতে দিলারার রেকর্ড

১২

বিশ্বকাপের আগে ব্যালন ডি’অর জয়ের তালিকায় এগিয়ে যারা

১৩

‘জনগণ ভাবছে সরকার ভোট নয়, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নির্বাচিত’

১৪

নজরদারিতে আইভী রহমান, বাড়ির সামনে বসানো হলো সিসিটিভি

১৫

প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের / এখনই ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিচ্ছে, ৫ বছরে কী হবে

১৬

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

১৭

সামরিক পরাজয়ের পর শত্রুরা গুপ্ত যুদ্ধে নেমেছে : মোজতবা খামেনি

১৮

২ দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯

এক দলে দুই পতাকা! / ইরাকের জার্সিতে বিশ্বকাপ মাতাবেন ‘রাষ্ট্রহীন’ ৪ ফুটবলার!

২০
X