

দৈনিক কালবেলায় গতকাল রোববার ‘ইফার নতুন ডিজি মুহিববুল্লাহর ভয়াবহ প্রতারণা-জালিয়াতি’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী। গতকাল এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি ওই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ অসত্য, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ইফা ডিজি বলেন, ২০১৫ সালের একটি ত্রুটিপূর্ণ ও মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে জাল দাবি করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে যে কেউ এখনো এর সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। এ ছাড়া তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ম মেনেই তিনি যথাসময়ে এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনক্রমেই দাখিল পাস করেন। বাংলাদেশে ১০ বছর বয়সেও দাখিল পাসের নজির রয়েছে। যেমন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. মো. আহসানুল্লাহ; যার রোল নম্বর ৫৯৫৪। তিনি ১৯৭৪ সালে ১০ বছর বয়সে দাখিল পাস করেন। বয়সের বিষয়টি অথরিটির অনুমোদনের বিষয়।
ইফা ডিজি আরও বলেন, একই বছরে দুই দেশে পড়াশোনার দাবিও মিথ্যা; তিনি বাংলাদেশে দাখিল পাসের পর নিয়মতান্ত্রিক বিরতি নিয়ে ভারতের ‘দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা’ থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন। সনদের কোনো দাপ্তরিক অসংগতি থাকলে তা বোর্ডের ত্রুটি, ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়। তিনি বলেন, চাকরি জীবনে সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও বদলিকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৮ সালের সাময়িক বরখাস্তের আদেশটি ছিল সিলেকশন গ্রেড থেকে বঞ্চিত করার একটি ষড়যন্ত্র; যা পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষ প্রত্যাহার করে নেয়। এ ছাড়া পদোন্নতি আদেশ জাল করা কিংবা ভুয়া জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরির অভিযোগ বানোয়াট। কারণ জ্যেষ্ঠতার তালিকাটি ২০১৩ সালের সিলেকশন কমিটির সভার কার্যবিবরণীতেই সংযুক্ত ছিল।
হালাল সনদ ও শরিয়াহ বোর্ড প্রসঙ্গে মুহিববুল্লাহিল বাকী বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে হালাল সনদ দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে মুফতি হিসেবে ধর্মীয় মতামত দেওয়া তার এখতিয়ারভুক্ত। তৎকালীন সময়ে দেশে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান না থাকায় সরকারের রাজস্ব ও রপ্তানির সুবিধার্থে কিছু রপ্তানিকারককে এই সনদ দেওয়া হয়েছিল; যা নিয়ে ২০১৫ সালের শোকজের পর তার আইনি ও ধর্মীয় ব্যাখ্যায় কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হয়। পাশাপাশি, ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য হওয়া কোনো লাভজনক পদ নয় এবং এটি সরকারি চাকরিবিধির লঙ্ঘন নয়।
রাষ্ট্রীয় খরচে হজ প্রসঙ্গে ইফা ডিজি বলেন, প্রভাব খাটিয়ে প্রতি বছর হজে যাওয়ার দাবি অবান্তর। ‘ডিজিটালাইজেশন অব কোরআন’ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং বঙ্গভবনে হজ প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় খরচে হজ পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনবার প্রশাসনিক টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই রাষ্ট্রীয় অনুমোদনে সফর সম্পন্ন করেন। ইফা ডিজি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী জানান, একটি কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
সাত আলেমের বিবৃতি: এদিকে প্রকাশিত সংবাদটির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদ বাংলাদেশ। গতকাল এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর প্রতি তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিদাতারা হলেন—সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মহাসচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদরীস, অর্থ সম্পাদক মুফতি সালাহউদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মিনহাজ উদ্দিন ও প্রচার সম্পাদক মুফতি আল আমিন।
বিবৃতিতে বলা হয়, মুহিববুল্লাহিল বাকী একজন স্বনামধন্য, যোগ্য ও অভিজ্ঞ আলেম। দীর্ঘদিন তিনি দেশের ইসলামী শিক্ষা, দাওয়াহ, খেদমতে দ্বীন এবং ইমাম-খতিব সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে আমরা মনে করি। বিশেষ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি মেরে থাকা সুবিধাবাদী চক্রের প্ররোচনায় এ ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিশ্বাস করি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক শর্ত। একপক্ষীয় তথ্যের ভিত্তিতে কারও সম্মানহানি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশবাসী, আলেম-উলামা ও ইমাম-খতিবদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।