কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

সব অনিয়মের তদন্ত চায় সরকারি দল
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নতুন চেয়ারম্যানকে ঘিরে ফের আলোচনায় আসা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের আনা জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সরকারি দল ও বিরোধী দল এ

পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়। গতকাল সংসদ অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ পাঁচজন সদস্য বক্তব্য দেন। সরকারি দল থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক এবং দেশের মোট রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এ ব্যাংকের মাধ্যমে আসে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক হয়রানি ও অপপ্রচারের মধ্যেও ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছিল এবং সে সময় খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সরকার বিভিন্ন উপায়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ব্যাংক লুটপাট করে, যার ফলে ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে চরম অব্যবস্থা চলছে। ৮৯ কোটি টাকার একজন ঋণখেলাপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়েছেন। অন্যদিকে, গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন আমানতকারীরা।

তিনি বলেন, এদেশে রিজার্ভ চুরির মতো বড় ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ডিজিএফআইর নেতৃত্বে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। এস আলম গ্রুপের কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। বলা হয় ইসলামী ব্যাংককে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। এটি কেন বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যাংক হবে? আবদুল আউয়াল মিন্টু একটি ব্যাংকের কর্ণধার, আমরা কি সেটাকে বিএনপির ব্যাংক বলব? মির্জা আব্বাস ঢাকা ব্যাংকের ডিরেক্টর, সেটা কি বিএনপির ব্যাংক? কিংবা প্রয়াত আবদুল জলিল যে ব্যাংকের ডিরেক্টর ছিলেন, সেটাকে কি আমরা আওয়ামী লীগের ব্যাংক বলব?

বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জোরপূর্বক দখল করা শেয়ার প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিয়ে সৎ লোকদের মাধ্যমে ব্যাংকটি পরিচালনা করা না হলে তিন কোটি গ্রাহক রাস্তায় নামবে এবং দেশে বড় ধরনের গণআন্দোলন তৈরি হবে।

বর্তমান চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি একজন পরীক্ষিত দুর্নীতিবাজ এবং অর্থ আত্মসাৎকারী। এরা এস আলমের মতোই জনগণের বাকি টাকা লুট করে নিয়ে যাবে। এ কারণেই গ্রাহকদের মধ্যে বিরাট আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারগুলো প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী যে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল কিংবা চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক তার পূর্ণ রেগুলেটরি ক্ষমতা প্রয়োগ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ইবনে সিনার মাত্র ২ শতাংশ শেয়ার ব্লক মার্কেটে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি করার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের কাছে ব্যাংকের প্রায় ৮১ থেকে ৯২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোন শেয়ারহোল্ডার কীভাবে এই শেয়ার কিনেছেন, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা আইনি তদন্তের ওপর জোর দেন তিনি।

ইসলামী ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প’ বা আরডিএস-এর আওতায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে এ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে। নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়ার জন্য নারীদের মধ্যে ১০ হাজার টাকা করে বিতরণ করে ‘কোরআনের দল’ হিসেবে ভোট চাওয়ার রাজনৈতিক প্রচারণারও সমালোচনা করেন তিনি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো সঠিক হদিস নেই এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত করে টাকা ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী। সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতের বা সিএসআর ফান্ডের অর্থ দিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিমানের টিকিট কাটার মতো অনিয়ম সংগঠিত হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

মন্ত্রী জানান, ব্যাংকটি জোরপূর্বক দখলের পর নিয়মবহির্ভূতভাবে ৯ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যারা বর্তমানে রাস্তায় আন্দোলন করছেন। এর বিপরীতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ৬ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভেঙে বেআইনি চাকরিচ্যুতির শিকার কর্মীদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় হওয়া নিয়োগগুলোর বৈধতা নিয়ে তদন্তের কথা জানান তিনি।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের সেকশন ৪৫, ৪৬, ৪৭ এবং ৫৭ (এ)-এর কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জনস্বার্থে মুদ্রানীতি ও ব্যাংক নীতি রক্ষার্থে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্নকারী যে কোনো কার্যক্রম প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ বা তদন্ত প্রমাণিত হয়নি, নতুন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে তা তদন্ত করা হবে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহকদের উসকানি দিয়ে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এই সংক্রান্ত অডিও ও ভিডিও ফুটেজসহ সব প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে। এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডকে ইসলামের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয় এবং সবকিছুতেই ‘ইসলামের ওপর হাত দেবেন না’ বলে দোহাই দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলাম নাকি ব্যাংকের মালিক না। আবার তারা বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপর হাত দেবেন না দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।

প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যাংকটির শেয়ার ডাকাতি করা হয়েছিল, অবিলম্বে তাদের কাছে সেই শেয়ার ফিরিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কীভাবে তারা শেয়ারহোল্ডার হয়েছেন সেটা পরে দেখা যাবে। এটা পরে কেন? এটা তো আগেই এক্সপোজড, সারা দুনিয়া জানে। এই ব্যাংক থেকে এস আলম তার নিজের নামেই ৮২ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন। আর সমুদয় যে শেয়ার তিনি কিনেছেন, যার মাধ্যমে তিনি ৮২ শতাংশের মালিক হয়েছেন, সেগুলোর মূল্য হচ্ছে মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ তিনি শুধু কইয়ের তেল দিয়ে কই ভাজেননি, শোল মাছও ভেজেছেন।

ব্যাংকটিতে অবৈধ নিয়োগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘১০ হাজার কর্মচারীকে সামান্য কোনো নিয়মনীতি না মেনে ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর তাদের ফের পরীক্ষায় বসার জন্য ডাকা হলেও তারা কেউ আসেনি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তোলা এক অভিযোগের জবাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ৭০০ কোটি টাকার লোন কোনো একটি দলের নির্বাচনি ফান্ডে যাওয়ার কথা বলেছেন। উনি যদি এর দ্বারা জামায়াতে ইসলামীকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমি চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। এটা প্রমাণ করতে পারলে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি মেডেল দেব।’

বিগত সময়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের দেওয়া ‘জামায়াত ইসলামী হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে’ বয়ানের ভিত্তিতেই ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সাড়ে ১২ বছরে তো তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। এখনো যদি অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলা হয়, তবে আমরা কি আবার দ্বিতীয় আবুল বারকাত হতে যাচ্ছি? আরডিএস প্রকল্প কোনো দলের নয়, কোনো ধর্মেরও নয়। আমি নিজে বোর্ডে ছিলাম, আমি জানি এখানে সব ধর্মের মানুষ সুবিধাভোগী।’

ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এস আলমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংকটিকে ধ্বংস করেছেন। সেই এস আলম আবারও ফিরে আসার প্রমাণ হলো বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি যখন রংপুরের রিজিওনাল ম্যানেজার ছিলেন, তখন তার বিরুদ্ধে ৫২ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল এবং শাস্তিও পেয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি বাধ্য হয়ে চলে গিয়েছিলেন। তিনি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন, তখন এস আলমের সব অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন। সেই পুরস্কার হিসেবে এক্সিম ব্যাংক থেকে তার স্ত্রীর নামে অস্তিত্বহীন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে সাড়ে তিন কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছিল। এমন একজন অসৎ লোককে একটি বিধ্বস্ত ব্যাংকের মাথার ওপর বসিয়ে দেওয়া কোনো যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক আস্থার একটি পিরামিড। এই পিরামিড ধসে পড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের অনাস্থা তৈরি হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে।’ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, বাস্তবতার ভিত্তিতে এই ব্যাংকটিকে বাঁচাতে হবে। এই ব্যাংক আগের জায়গায় ফিরে এলে পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরবে। সর্ববৃহৎ ব্যাংকটিরও যদি একই বিপর্যয় ঘটে, তা হলে আমরা গিয়ে কোথায় দাঁড়াব? ব্যাংকটি বাঁচুক, আমরা এটাই চাই।’

সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকটিকে ‘অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে’। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভবিষ্যৎ বিএনপি সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ ব্যাংকটির গোড়াপত্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাই এর মর্যাদা ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংককে নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা উচ্ছৃঙ্খলতা সহ্য করা হবে না।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। কোনো কোনো বিরোধীদলীয় নেতা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গোল্ড মেডেল দাবি করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যারা অর্থ নিয়েছেন তারা তো কেউ নিজের নামে টাকা নেননি। এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বিগত নির্বাচন থেকে। আমরা দেখেছি, নির্বাচনে কিছু কিছু এলাকায় ক্যান্ডিডেটরা অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ করেছেন। এমন অনেক প্রার্থী ছিলেন যাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য বা আয়ের উৎস জানা নেই, অথচ তারাও নির্বাচনে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এই অবৈধ ও অপ্রদর্শিত অর্থ যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করে, তখন তা গোটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের চরিত্র নিয়ে বিরোধী দল থেকে যেসব বক্তব্য এসেছে, তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে অনিয়মের কোনো প্রমাণ পায়নি। প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে একটি উগ্র গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মিছিল ও বিশৃঙ্খল কর্মসূচি পরিচালনা করছে। মূলত কিছু অশুভ শক্তি ইসলামী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করে দিয়ে দেশের সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

দেশের মানুষ হতাশ হয় এমন কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও আগামীর বাংলাদেশ গড়ার শপথ থেকে নির্বাচিত বিরোধী দলকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করা এবং তুচ্ছ ইস্যু নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আশ্বিন মাসে কুকুরে বেশি কামড়ালেও ভ্যাকসিনের অভাব হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী কারাগারে

 স্কুলছাত্রীদের মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুরু হলো ‘গোল ফর গুড’ ক্যাম্পেইন

পুশইন ঘিরে সীমান্তে উত্তেজনা, মুখোমুখি বিজিবি-বিএসএফ

ইরান আলোচনায় দেরি করেছে, এখন তাদের ‘মূল্য চুকাতে হবে’ : ট্রাম্প

নজর কাড়ছে ১২০০ হাত লম্বা আর্জেন্টিনার পতাকা 

৩০ বছর পর কবর থেকে তোলা হচ্ছে সালমান শাহ’র মরদেহ

কমলো হার্টের রিংয়ের দাম

জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী / সেমিফাইনালে ছিটকে পড়বে আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

কোন বয়সে মানুষ সবচেয়ে সুখী থাকে? জানাল গবেষণা

১০

জার্মানির সাড়ে ৭ কিলোমিটার পতাকা বানালেন কৃষক

১১

বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন বিক্ষোভে উত্তাল মেক্সিকো

১২

একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করে স্বামী-স্ত্রী দুজনই কারাগারে

১৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তুমুল সংঘর্ষ, নিহত ১

১৪

 বিশ্বকাপের গান গাইলেন বিজয় মামুন

১৫

মারা গেলেন নাট্যশিল্পী আবুল হাসনাত প্রদীপ

১৬

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সবাই নিহত

১৭

দুর্বৃত্তদের হামলায় কৃষক দল নেতা খুন

১৮

বিরোধী দলের এলাকাও উন্নয়নের বাইরে থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

১৯

প্রিমিয়ারে টেইলর সুইফটের চমক,আলোচনায় 'টয় স্টোরি ৫'

২০
X