

ফিফা সভাপতি সম্প্রতি বলেছেন, এবারের বিশ্বকাপ হলো ‘মানবজাতির দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ আয়োজন।’ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত ২০২৬ বিশ্বকাপকে তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ঐক্যবদ্ধ টুর্নামেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তবে এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন । তাদের মতে, এটি একই সঙ্গে সবচেয়ে রাজনৈতিক, ব্যয়বহুল এবং বিতর্কিত বিশ্বকাপ।
এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, এর আকার ও বিস্তার। তিনটি দেশে ছড়িয়ে পড়া আয়োজন যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি তৈরি করেছে জটিল বাস্তবতা। প্রায় ৭৫ শতাংশ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে, যা ভৌগোলিক দূরত্ব, ভ্রমণ খরচ এবং লজিস্টিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। সমর্থকদের জন্য টিকিটের উচ্চমূল্য এরই মধ্যে বড় সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, যেখানে সাধারণ ভক্তদের অনেকেই মাঠে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ হারাচ্ছেন।
আয়োজক শহর মেক্সিকো সিটি, বিশেষ করে ঐতিহাসিক ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে—এটি তৃতীয়বার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে। তবে এই গৌরবের পাশাপাশি
নিরাপত্তা ও সামাজিক অস্থিরতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মেক্সিকোর কিছু অঞ্চলে সাম্প্রতিক কার্টেল সহিংসতা দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতিও টুর্নামেন্টকে প্রভাবিত করছে। অভিবাসন নীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অনেক দেশের অংশগ্রহণ ও সমর্থকদের যাতায়াতে জটিলতা তৈরি করেছে।
এমনকি ইরান দলের উপস্থিতি নিয়েও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
মাঠের বাইরে সামাজিক অস্থিরতাও লক্ষণীয়। মেক্সিকো সিটিতে কিছু প্রতিবাদকারী বিশ্বকাপের প্রতীকী মূর্তি ভেঙে দিয়েছে আর শিক্ষকদের একটি আন্দোলন বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ম্যাচে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
পরিবেশগত দিক থেকেও এই বিশ্বকাপ সমালোচনার বাইরে নয়। দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ এবং বড় পরিসরের আয়োজন কার্বন নিঃসরণ বাড়াবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ একদিকে যেমন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ অন্যদিকে তেমনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের এক জটিল প্রতিচিত্র। এটি শুধু একটি ক্রীড়া উৎসব নয় বরং একটি বৈশ্বিক বাস্তবতার পরীক্ষাগার, যেখানে গৌরব ও বিতর্ক পাশাপাশি অবস্থান করছে।