

গ্রুপ পর্বের পর নকআউটের নাটকীয়ভাবে দুই বাধা পেরিয়ে এসেছে আর্জেন্টিনা। আসরে পাঁচ ম্যাচ খেলে ফেললেও এখনো দলটা পুরোপুরি সেট করতে পারেননি লিওনেল স্কালোনি। সমস্যার মূলে দুটি পজিশন—আক্রমণভাগে মেসির আদর্শ সঙ্গী হুলিয়ান আলভারেজ না লাওতারো মার্তিনেজ এবং রাইটব্যাকে গঞ্জালো মন্তিয়েল নাকি নাহুয়েল মলিনা! সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দুই পজিশন ছাড়া দলের মূল কাঠামো ঠিকই থাকছে।
মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে মোলিনা কিংবা হুলিয়ান আলভারেস—কেউই সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। বিপরীতে, বিকল্প হিসেবে মন্তিয়েল এবং লাউতারো মার্তিনেসের মাঠে নামাটা দলের জন্য বেশ ইতিবাচক ছিল। মন্তিয়েলের বাড়ানো বলে মেসির দুর্দান্ত ভলিতে সমতা এনেছিল আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে দারুণ ভূমিকা রাখেন—এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করে। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা কোচের দুটি দ্বিধাদ্বন্দ্বের জায়গাও তাই আক্রমণভাগ ও রাইটব্যাক পজিশন। দলের শেষ প্রস্তুতি ছিল রুদ্ধদ্বার। তাই দুটি পজিশন সম্পর্কেও আগাম কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের দিকেই দৃষ্টি দিচ্ছেন সুইজারল্যান্ড দলের সদস্যরা। দলটি যা করেছে, তাতে তৃপ্ত সমর্থক থেকে শুরু করে ফুটবলাররাও। যার অর্থ এই নয়—দলটি নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছাড়াই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই লড়াইয়ের আগে বরং নিজেদের মধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্যও দেখছেন অধিনায়ক গ্রানিত জাকা! প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বলে দলটির প্রতি সমীহ আছে ঠিকই; কিন্তু দলের খেলোয়াড়রা এটাও বিশ্বাস করছেন—আর্জেন্টিনা এমন কোনো দেয়াল নয়, যেটা টপকানো যাবে না। সব মিলিয়ে শেষ কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সুইসদের মাঝে বিরাজ করছে মিশ্র অনুভূতি।
নকআউটের প্রথম ধাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে যথেষ্ট ভুগতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মিশরের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর ৩-২ গোলে জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচে টার্গেটে দুই শটে দুই গোল হজম করেছে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নরা। এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই হয়তো গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ অনুশোচনায় ভুগছেন—‘দলে আমাকে আরও ভূমিকা রাখতে হবে’। ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার গোলরক্ষক বিশ্বাস করেন, ‘দলে আমার এমন ভূমিকা রাখার সামর্থ্য আছে, যা ম্যাচের ভাগ্য লিখে দিতে পারে।’ যেমনটা কাতার বিশ্বকাপে এই দীর্ঘকায় গোলরক্ষক একাধিক ম্যাচে দেখিয়েছিলেন।
সর্বশেষ দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সংগ্রামী চিত্রের বিপরীতে পেনাল্টিতে কলম্বিয়াকে হারানোর পর সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন দারুণ আশাবাদী, ‘এটি একটি অনন্য সুযোগ; এটি প্রমাণ করেছে যে আর্জেন্টিনাও অপরাজেয় নয়।’ সুইজারল্যান্ড ৭২ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। এই পর্যায়ে তাদের শেষ উপস্থিতি ছিল ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে। সেই আসরে স্বাগতিক হিসেবে খেলেছিল দেশটি। তাই দলটির বর্তমান অর্জনকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে। এই অর্জনে সমর্থকরাও নতুন আশায় বুক বাঁধছেন।
জার্মানি, ইতালি বা ফ্রান্সের মতো বড় ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সমর্থকদের উন্মাদনার চেয়ে সুইসদের ফুটবল উপভোগের ধরন একদম আলাদা। স্টেডিয়ামগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাতে গোনা কয়েকজন সুইস প্রবাসী ছাড়া নিরপেক্ষ দর্শকদের মধ্যে এই দল নিয়ে খুব একটা উন্মাদনা দেখা যায় না। আর্জেন্টিনার চিত্রটা সম্পূর্ণ বিপরীত। শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়েও একই চিত্র ফুটে উঠবে!