মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

খাদ্য নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে জোর দিতে হবে

খাদ্য নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে জোর দিতে হবে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ, জিডিপিতে যার অবদান প্রায় ১৩.৬ শতাংশ। তবে, এ অবদান সময়ের পরিক্রমায় পরিবর্তিত হয়েছে এবং বিভিন্ন অর্থবছরে এ হার বিভিন্ন ছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং কৃষি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে কৃষি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কৃষিকে সংকটে ফেলেছে। তাই আগামী দিনের কৃষি হবে এআই ও ড্রোননির্ভর, যা আমাদের উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়াতে সক্ষম হবে। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে উন্নয়ন সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, ড্রোনের মাধ্যমে অথবা আইওটির (ইন্টারনেট অব থিংস) সাহায্য নিয়ে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, মাটি ও আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে বীজ বপনের সঠিক সময় নির্ধারণ, সেচ দেওয়া এবং রোগবালাই শনাক্তকরণে এআই কার্যকর হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে এআই ব্যবহার করে কৃষিতে আগের তুলনায় উৎপাদনকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।

আশার কথা হলো, শুধু বহির্বিশ্বে নয়, বাংলাদেশেও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলকভাবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের সঙ্গে অংশীদারত্বে ‘স্টারস’ প্রকল্পের আওতায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। তবে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আগামীতে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া উচ্চগতির ইন্টারনেটের সীমিত প্রসার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতিও এআই ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, প্রযুক্তি সহজলভ্য করা এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে এআইকে কৃষি খাতে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এক কথায় সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে এআই কৃষি খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

এ ছাড়া সামনের দিনে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে ড্রোন ও এআই অন্যতম ভরসার প্রযুক্তি হতে পারে। সব মিলিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পানি, সার ও কৃষি উপকরণের সঠিক ব্যবহার বাড়ানো এবং কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে এ দুটি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

ক্রমেই কৃষিজমির পরিমাণ কমছে। আশার কথা হচ্ছে, নতুন নতুন জাতের উদ্ভাবনের ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যে জমিতে ২০ মণ ধান হতো, সে জমিতে এখন ৩৫-৪০ মণ ধান হচ্ছে। একই সঙ্গে দুঃখের কথা হচ্ছে, দেশে উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফসলগুলো প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। এখনো সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে অনেক জায়গায়। কৃষি জমির পরিমাণ চাইলেই বাড়ানো সম্ভব নয়, তাই উৎপাদনশীলতার ওপর জোর দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। যেহেতু বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকট তীব্রতর হচ্ছে, সেহেতু আমাদের আগে থেকে পদক্ষেপ নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। উন্নত জাতের ফসলের বীজ দেশের সর্বস্তরের কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে প্রণোদনা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

মোটকথা, কৃষিসেবা জোরদার করতে হবে। বাজেটে কৃষি প্রণোদনা বাড়াতে হবে। কৃষকের দোরগোড়ায় কৃষিসেবা পৌঁছে দিতে হবে। ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্ব সহকারে কাজ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেবা পেতে অসুবিধা হলে হটলাইন নম্বরে কল করে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমছে, অথচ দেশের ১৮০ মিলিয়ন লোকের খাদ্য সরবরাহ করছে কৃষি। তাই আমাদের কৃষির ওপর জোর দিতে হবে। কোনোভাবেই যেন খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হতে না হয়। কাজেই যা করার আমাদের খুব দ্রুতই করতে হবে।

আগামীতে তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারলে বা নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য ‘ফারমার্স কার্ড’ চালু করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, কার্ডে থাকবে কৃষকের নাম, জমির পরিমাণ ও দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য। সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে এ কার্ড ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি, কৃষি ব্যাংক সহজেই এসব তথ্য একসেস করতে পারবে, ফলে কৃষিঋণ, বীমা সুবিধা, সার ও বীজের সুবিধা পেতে কৃষকদের আর কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না। এরকম নানান পলিসি তিনি জনমানুষের কল্যাণে বসে বসে নীরবে নিভৃতে গ্রহণ করছেন। তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরে পুরো জাতিকে নেতৃত্ব দেবেন—এমনটাই আশা সবার।

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হার্ট ভালো রাখতে প্রতিদিন খাবেন যে পাঁচ খাবার

৩৪ তলার ফ্ল্যাট কেনার পর জানতে পারলেন ভবনটিই ৩২ তলা

চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা: আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প

পদত্যাগী মন্ত্রীর বাসায় খিচুড়ি, প্রতিমন্ত্রীর সভা শেষে বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন

বাজেটে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : মির্জা ফখরুল 

মৌচাকে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল খুন

মহানগর যুবদল নেতা বহিষ্কার

নুরজাহান বেগমের মৃত্যু : সমাজের এক নির্মম আয়না

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে স্থায়ী বহিষ্কার 

পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হলেন প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান

১০

তনু হত্যা  / ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ ২ আসামির বিরুদ্ধে 

১১

নাগরিকসেবায় অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

১২

হোয়াটসঅ্যাপে ইসরায়েলের সাইবার হামলা, মামলা করবে মেটা

১৩

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১৪

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ট্রেনিং সেন্টার / ৬ দিনব্যাপী ফাউন্ডেশন কোর্সের দ্বিতীয় পর্ব শুরু

১৫

এনসিপিতে যোগ দিলেন বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী

১৬

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্য : হালাল পণ্যে বড় সম্ভাবনা

১৭

ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা

১৮

মুক্তির আগেই সাফল্যের দুয়ারে ‘ককটেল ২’

১৯

ইসরায়েলে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

২০
X