

মিরপুরে একটা দারুণ স্মরণীয় ইতিহাস হতে পারত। নিজেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের কোনো সংস্করণে প্রথমবার সুপার ওভারের ম্যাচ বলে কথা। কিন্তু সেই সহজ সমীকরণ মেলাতে পারেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সিরিজ জয়ের সুযোগ মিস করে এখন শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজরা। দলের এমন হারের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে সুপার ওভারে ব্যাটারদের পাঠানো নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে যত।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে এত নাটকীয়তা হতোই না। যদি শেষ বলে খারি পিয়েরের তোলা ক্যাচটি ঠিকঠাক গ্লাভসবন্দি করতে পারতেন নুরুল হাসান সোহান। কিন্তু ক্যাচ মিসে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে ৬ বলে ১১ রানের লক্ষ্য কিংবা বলা যেতে পারে ৬ বলে ৮ রানের লক্ষ্য—এই সহজ হিসাবটুকুই মেলাতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। টপ অর্ডারের ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতার জন্য এখন সমালোচনায় বিদ্ধ কোচিং স্টাফের সদস্যরা।
উইন্ডিজের বিপক্ষে এ সিরিজে ব্যাট হাতে সফল রিশাদ হোসেন। বিশেষজ্ঞ ব্যাটার না হলেও মিরপুরের স্পিন উইকেটে বেশ কার্যকারিতার ছাপ রেখেছে তার ব্যাট। প্রথম ম্যাচে ১৩ বলে ২৬ ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৪ বলে ৩৯ রানের ইনিংস। কিন্তু সুপার ওভারেই যখন শেষ ২ বলে দরকার ৪ রান তখনো এই ব্যাটারকে দেখা গেল না। উল্টো বাঁহাতি সৌম্য সরকার ফেরাতে নামানো হয়েছিল আরেক বাঁহাতি নাজমুল হোসেন শান্তকে। পুরোনো দিনের কোনো নিয়মকেই যেন রক্ষা করেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। এখানেই প্রশ্নটা তোলেন জাতীয় দলের সাবেক পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট মহসিন শেখ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি যখন ড্রেসিংরুমে থাকবেন না, তখন আপনি স্থানীয় খেলোয়াড়দের ‘কমনসেন্স’ নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। এখন তো আপনি দায়িত্বে। এখন সেই কমনসেন্স কোথায়?’
মহসিনের এমন আক্রমণাত্মক স্ট্যাটাসে কারও নাম না থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই আঙুলটা ওঠে দেশের অন্যতম সেরা কোচ খ্যাত মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের দিকেই। কেননা, যখন তিনি জাতীয় দলের কোচ ছিলেন না, তখন বিভিন্ন সময় খেলোয়াড়দের ‘কমনসেন্স’ ও ‘ব্রেনলেস ক্রিকেট’ বলে কড়া সমালোচনা করেছিলেন; কিন্তু এখন তিনি নিজেই ড্রেসিংরুমে আছেন। আর সেখানেই যখন তিনি থাকার পরও দলের এমন সিদ্ধান্ত, তখন প্রশ্নটা উঠেই যায়। অবশ্য প্রশ্নটা তুলে দিয়েছিল খোদ প্রতিপক্ষও। ম্যাচে যখন রিশাদের ব্যাটিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তারা, তখন নাকি সুপার ওভারেও রিশাদকেই আশা করেছিলেন আকিল হোসেনরা! এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার প্রশ্ন রেখে যেমনটা বলেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে, ‘আমি কিছুটা অবাক হয়েছি। ম্যাচে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ছিল রিশাদ, ১৪ বলে ৩৬ করেছে। তাকে সুপার ওভারে পাঠানো হয়নি! বাউন্ডারির ছোট পাশটায় সে মারতে পারত, দুটি ছক্কা তো ওদিক দিয়েই মেরেছিল। আমরা সবাই কিছুটা অবাক হয়েছি; কিন্তু এ সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষেই এসেছে। রিশাদ লম্বা, হাতে মার আছে; কিন্তু তারা তাকে ব্যাটিংয়ে পাঠাননি!’ উত্তরটা সৌম্য তখন দিলেন এমন, ‘কোচ ও অধিনায়ক পরিকল্পনা করেছেন। এটা তাদের পরিকল্পনার একটা পার্ট ছিল। তারা চিন্তা করছেন যে, মূল ব্যাটসম্যান পাঠাবেন এ সময়।’ বাইরে থেকে টিম ম্যানেজমেন্টের এমন সিদ্ধান্তকে অনেকেই বলছেন অদ্ভুত। আবার অনেকেই ধুয়ে দিচ্ছেন তাদের। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট চুপচাপ!