কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য পরামর্শ

জরায়ু মুখের ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা

ডা. পবিনা আফরোজ পারভীন
জরায়ু মুখের ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা

জরায়ু মুখের ক্যানসার নারীদের ক্যানসারের মধ্যে চতুর্থ স্থানে আছে। এটিই একমাত্র ক্যানসার, যা প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা যায়—শহর এবং গ্রামে উভয় জায়গায়। গ্রামে ভায় এবং শহরে এলবিসি লিকুইড বেসড সাইটোলজি, কল্পোস্কপি ইত্যাদির মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে এ রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায় থেকে ক্যানসারে রূপান্তরিত হতে ১০-১২ বছর সময় লাগে। এই ক্যানসার জীবনের দুই পর্যায়ে হতে পারে; ৩৫-৩৯ বছর এবং ৬০-৬৯ বছর।

লক্ষণ:

১. দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব যাওয়া,

২. অনিয়মিত মাসিক হওয়া,

৩. সহবাসে রক্ত যাওয়া,

৪. মেনোপজ হওয়ার পর রক্ত যাওয়া,

৫. তলপেটে ব্যথা হওয়া।

ঝুঁকিতে যারা: ১. জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ১০ বছরের বেশি খাওয়া, ২. অল্প বয়সে বিয়ে হওয়া, ৩. অল্প বয়সে বাচ্চা প্রসব করা, ৪. ঘন ঘন সন্তান প্রসব এবং পাঁচটির বেশি সন্তান হওয়া, ৫. ডে লেবারের স্ত্রী, ৬. বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক থাকা ইত্যাদি।

কোন ভাইরাস দায়ী: এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) সবচেয়ে বেশি—১৬, ১৮ সেরোটাইপ। যাদের দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ এইচআইভি বা অন্যান্য কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ে। অল্প বয়সে যৌন ক্রিয়াকলাপে জড়িয়ে পড়লে ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া ধূমপান এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির অভাব এ রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

রোগ শনাক্তকরণ: ১. স্ক্রিনিং (সুস্থ নারীদের জন্য), ২. বায়োপসি (সার্ভিক্যাল টিউমার) এবং হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা। ৩. এমআরআই অব পেলভিস—প্রাথমিক ও অ্যাডভান্স পর্যায় জানার জন্য, ৪. টিউমার মার্কার।

চিকিৎসা: চিকিৎসা পদ্ধতি রোগের পর্যায়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথমে সার্জারি পরে রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি। অ্যাডভান্স পর্যায়ে প্রথমে সিসিআরটি—কেমোরেডি ও রেডিওথেরাপি, অনেক সময় কেমোথেরাপির পর সার্জারিও করা হয়।

প্রতিরোধের উপায়: ১. প্রাথমিক প্রতিরোধ হিসেবে এইচপিভি ভ্যাকসিনেশন; ৯ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত সব সুস্থ কন্যাশিশু ও নারী এই টিকা নিয়ে রোগ প্রতিরোধ করতে পারেন। ২. সেকেন্ডারি প্রিভেজশন; সচেতনতা হিসেবে প্রত্যেক সুস্থ নারীর উচিত ৩০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত স্ক্রিনিং করা। ৩. টারশিয়ারি প্রিভেনশনের পরও ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে শনাক্তের পর যথাযথ চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে দুর্ভোগ কমানো ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা।

ডা. পবিনা আফরোজ পারভীন

স্ত্রীরোগ, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ ক্যানসার এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন

চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্কুলছাত্রকে অপহরণের চেষ্টা, আতঙ্কে অভিভাবকরা

জমিয়তে উলামায়ে যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনের ১০ নেতা

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ২ মাসের সর্বনিম্নে

সংসদের লাইব্রেরি কমিটির ৪ নম্বর সাব-কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক

দোকানপাট খোলার সময় বৃদ্ধি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যবসায়ীদের চিঠি

যুদ্ধে যোগ দিল ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী, ইসরায়েলকে নতুন হুঁশিয়ারি

বিশ্বকাপের আগে চোটে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ তারকা

বছরে ৩৫ লাখ টন খাদ্য ময়লার ঝুড়িতে যায় : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ইনস্টাগ্রামে ছবি উধাও, এবার কি মুম্বাইয়েও সূর্যাস্ত?

কক্সবাজারে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২০

১০

ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৯ লেবানিজ সেনা

১১

আজমিরীগঞ্জে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেপ্তার

১২

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

১৩

ঢাকার পানির সংকট কাটাতে বড় সুখবর দিলেন মির্জা ফখরুল

১৪

ইবনে সিনায় চাকরির সুযোগ, দ্রুত আবেদন করুন

১৫

নিখোঁজ নানাকে ফিরে পেলেন হিমি

১৬

বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার : ত্রাণমন্ত্রী

১৭

সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আরও এক শিশুর মৃত্যু

১৮

‘শান্তিরক্ষীরা জীবন বাজি রেখে দেশের সম্মান রক্ষা করছেন’

১৯

যুবদলের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, গুলশানে পদবঞ্চিতদের অবস্থান কর্মসূচি

২০
X