

পাবনা-১ ও ২ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
কারণ জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আপিল বিভাগের আদেশে পাবনা-১ ও ২-এর নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে।’
গত ২৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ের পর পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আগের সীমানা পুনর্বহাল করে নির্বাচন কমিশন যে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল, গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সেই অংশটুকু স্থগিত করে দেয়। এক প্রার্থীর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। তাতে সাঁথিয়া উপজেলার পুরোটা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়।
ওই গেজেটের এই দুটি আসন সংক্রান্ত অংশটুকুর বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন।
তাতে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসির গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর পাবনার আসন দুটি নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। তাতে আগের মতোই পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন) নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠিত হয়। আর পাবনা-২ আসনও গঠিত হয় বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে।
মন্তব্য করুন