

বিপিএলে অভিষেক মৌসুমেই হতাশার ভার বইছেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সমর্থকরা। নোয়াখালী থেকে বাসভর্তি দর্শক সিলেটে গিয়ে দিনের পর দিন গলা ফাটালেও জয় দেখার সুযোগ হয়নি। ছয় ম্যাচে ছয় হার—এই বাস্তবতায় সমর্থকদের উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সৌম্য সরকার।
চলতি আসরে সময় স্বল্পতার কারণে পাঁচ দল নিয়ে বিপিএল আয়োজনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে যুক্ত হয় নোয়াখালী। প্রথমবার দল পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ছিলেন জেলার সমর্থকরা। নিলামের আগে সৌম্য সরকার, হাসান মাহমুদ, কুশল মেন্ডিস ও জনসন চার্লসের মতো ক্রিকেটারদের দলে ভেড়ানোয় ভালো কিছুর স্বপ্নও দেখেছিলেন তারা।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। চোটের কারণে কুশল মেন্ডিস খেলতে আসেননি, জনসন চার্লসকেও মাঠে দেখা যায়নি, আর ব্যক্তিগত কারণে সৌম্য নিজেও কয়েকটি ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে দল একের পর এক হারে পড়ে যায় চাপে। তবুও নোয়াখালী শহর থেকে সমর্থকরা বাস ভাড়া করে সিলেটে এসে দলকে সমর্থন জুগিয়েছেন—ফেরার পথে তাদের সঙ্গী হয়েছে কেবল হতাশা।
এই সমর্থকদের কষ্টের কথা স্বীকার করে সৌম্য বলেন, “তাদের জন্য সত্যিই খারাপ লাগে। আমরা চেষ্টা করছি তাদের খুশি করতে, কিন্তু পারছি না। তারা এত কষ্ট করে খেলা দেখতে আসে—এই জায়গা থেকে আমরা তাদের কাছে ‘সরি’ বলি, কারণ আমরা জিততে পারছি না।”
পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে সৌম্য সরাসরি ব্যাটিং ব্যর্থতার দিকেই আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে, অধিকাংশ ম্যাচেই পাওয়ার প্লেতে দল বিপদে পড়েছে। “প্রায় প্রতি ম্যাচেই প্রথম ছয় ওভারে তিন বা চারটি উইকেট পড়ে যাচ্ছে। রান না হওয়ার এটাও বড় কারণ,” বলেন বাঁহাতি ওপেনার।
তবে চেষ্টা আর মানসিকতার ঘাটতি নেই বলেই দাবি সৌম্যের। “শেষ কয়েকটি ম্যাচে দেখেছি, সবাই একটা ম্যাচ জেতার জন্য মরিয়া। সবাই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো কারণে আমরা একসঙ্গে ক্লিক করতে পারছি না,” যোগ করেন তিনি।
টানা হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারলে তবেই হয়তো নোয়াখালীর সমর্থকদের দীর্ঘ যাত্রার কষ্ট সার্থক হবে—এটাই এখন সৌম্যদের বড় চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য করুন