

বৈদেশিক ঋণ ও প্রতিশ্রুতি কমিয়ে দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং অর্থছাড় ২৯ দশমিক ২৩ শতাংশ কমেছে। তবে আগের নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মত অর্থনীতিবিদদের।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। গতকাল বুধবার চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইআরডি। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ১৯৯ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রতিশ্রুত ঋণের মধ্যে অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং ঋণ হিসেবে পাওয়া গেছে ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে প্রতিশ্রুত ঋণের মধ্যে অনুদান হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর ঋণ হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল ২০০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থছাড় হয়েছে ২৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ৩৫৩ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। মোট অর্থছাড়ের মধ্যে চলতি অর্থবছরে ঋণ হিসেবে পাওয়া গেছে ২২৫ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর অনুদান পাওয়া গেছে ২৪ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ পাওয়া গিয়েছিল ৩২৬ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং অনুদান পাওয়া গিয়েছিল ২৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
ইআরডির প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করা হয়েছে ২১৯ কোটি ৫০ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ২ হাজার ৬৭৭ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে আসল পরিশোধ করা হয়েছে ১৪২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ১ হাজার ৭৩৮ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৭৯ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার বা ৯৩৮ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার টাকা।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ১৯৮ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা দেশীয় মুদ্রায় ২ হাজার ৩৬৭ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে আসল পরিশোধ করা হয়েছিল ১২৩ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ১ হাজার ৪৭৩ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। ঋণের সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৭৪ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা ৮৯৩ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
বরাবরের মতো অর্থছাড়ে এগিয়ে রয়েছে বিশ্বব্যাংক। তারা অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ঋণছাড় করেছে ৫৪ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এর পরই দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি ৫১ কোটি ৯১ লাখ ৮০ হাজার ডলার অর্থছাড় করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ঋণছাড় করেছে ১২ কোটি ১৮ লাখ ডলার।
ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনদিকে যায় সেটা পর্যবেক্ষণ করছে উন্নয়ন সহযোগীরা। তাদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ আর অল্প কিছুদিন বাকি আছে। এরপর নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে তখন তাদের পলিসিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এজন্য এ মুহূর্তে তারা নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতিতে না গিয়ে নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে। নতুন সরকার এলে ঋণের অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি বেড়ে যাবে।