

সরকারের কাছে নবনিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করে নতুন নিয়োগের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান গভর্নরের নিয়োগ উদ্যোগের মাধ্যমে যদি লুটপাটের অন্যতম দায়ী শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবার কর্তৃত্বে ফিরিয়ে আনা হয়, সেটি কোনো অবস্থায় রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হবে না।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ইফতেখারুজ্জামান। ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য: টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করে টিআইবি। এ সময় দুর্নীতি প্রতিরোধ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা; তথ্য অধিকার ও তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি; সাইবার ও উপাত্ত সুরক্ষা জোরদার এবং সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করাসহ ১১টি সুপারিশ সরকারের কাছে তুলে ধরে সংস্থাটি। একই সঙ্গে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব উন্নয়ন কৌশল গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগ এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের দেশে ফেরার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন নিয়োগ পাওয়া গভর্নরের জোরালো স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি সংস্থা হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। কাজেই এ নেতৃত্বের হাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে দেওয়াটা সামনের পাঁচ বছরের জন্য কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
টিআইবি ১১টি বিষয় সুপারিশ তুলে সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সুপারিশ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, ব্যাংক খাত, বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ক্ষেত্রে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করতে হবে।
র্যাব বিলুপ্তির আহ্বান: র্যাব বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ডিজিএফআই-এসবি-ডিবি-এনএসআইর মতো গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। এ ছাড়া সরকারের কাছে র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করারও সুপারিশ করে সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট কাজী আমিনুল হাসান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, নির্বাহী ব্যবস্থাপনার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।