কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বাড্ডায় তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর রহস্যভেদে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে

অচল সব সিসি ক্যামেরা
বাড্ডায় তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর রহস্যভেদে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে
ফাইল ছবি

রাজধানী ঢাকার ইবনে কাসীর ক্যাডেট মাদ্রাসার বাড্ডা শাখার কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে কাজ করতেন সাইফুল ইসলাম (২৪)। আর একই মাদ্রাসায় রান্না ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন শাকিলা আক্তার (২০)। টানা কয়েক মাস একই প্রতিষ্ঠানে কাজের একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। গত ২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সর্বশেষ দুজনকে ওই মাদ্রাসার কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখেছেন অন্য কর্মীরা। ২৪ ও ২৫ তারিখ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র-শনিবার হওয়ায় মাদ্রাসা ছিল বন্ধ। ২৬ তারিখ মাদ্রাসা খুলতে সাইফুলকে ডাকা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। একইদিন শাকিলাকেও তার কর্মক্ষেত্রে পাননি মাদ্রাসার অন্য কর্মীরা। দুজনের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলে ২৭ তারিখ সাইফুল ও শাকিলার নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর গত রোববার বিকেলে মাদ্রাসা ভবনের নিচতলার পরিত্যক্ত এমব্রয়ডারি কারখানার ভেতর থেকে দুজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ভবনটি থেকে দুর্গন্ধ এলে প্রথমে তা মৃত ইঁদুর পচা দুর্গন্ধ ভেবে পরিষ্কার করানো হয়। কিন্তু দুর্গন্ধ না কমায় নিচতলার পরিত্যক্ত কারখানার কক্ষ পরিষ্কার করতে যান ওই ভবনের আরেক কেয়ারটেকার সুলতান আহমেদ। তিনিই প্রথম লাশ দুটি দেখতে পান। তবে ভবনটিতে থাকা সব সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় এ মৃত্যুরহস্য ভেদ করতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশের। এটি জোড়া হত্যাকাণ্ড, নাকি আত্মহত্যার ঘটনা, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) সফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘জোড়া লাশ উদ্ধারের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে বাড্ডা থানা পুলিশ। মরদেহগুলো গলিত হওয়ায় পরদিন সোমবার সকালে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে মামলা হয়েছে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ওই ভবনের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে; কিন্তু তা নষ্ট। এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন। বাড়িওয়ালা এবং মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকলে তদন্তের কাজটি হয়তো আরও দ্রুত হতো।’

উত্তর বাড্ডার পূর্বাঞ্চল ২ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়িটি এলাকার লোকজনের কাছে পরিচিত ইবনে কাসীর ক্যাডেট মাদ্রাসা নামে। ভবনটির সামনে রয়েছে মাদ্রাসার বড় একটি সাইনবোর্ড। তিনতলা বাড়িটির তৃতীয় তলায় ইবনে কাসীর ক্যাডেট মাদ্রাসা, আর দ্বিতীয় তলায় পরিবারসহ থাকেন বাড়ির মালিক আতিক। নিচতলায় পরিত্যক্ত এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরি।

বাড়ির মালিক আতিক কালবেলাকে বলেন, কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী মারা যান। তিনি গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে গত শনিবার ফিরে বাসাবাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে পচা গন্ধ পান। পরে খুঁজে বেশ কয়েকটি মরা ইঁদুর দেখে সেগুলো ফেলে দেন। রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে আবারও দুর্গন্ধ পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। পরে নিচতলার পরিত্যক্ত কারখানার কক্ষ পরিষ্কার করতে পাঠান কেয়ারটেকার সুলতান আহমেদকে। তিনিই প্রথম লাশ দুটি দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।

ভবন মালিক আরও বলেন, বাড়ির সিসি ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় দুজনের মৃত্যুর ঘটনার কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি। আর পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিচতলার কারখানায় ‘টিপ তালা’ দেওয়া ছিল, যা ভেতর ও বাইরে—দুদিক থেকেই লাগানো যায়।

গত সোমবার বিকেলে তদন্তের কাজে ঘটনাস্থলে আসা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহীমের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। বাসার আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, তা অচল অবস্থায়। বাড়ির মালিক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। তারাও সহযোগিতা করছেন।’

মৃত সাইফুল ও শাকিলা সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আলিম উদ্দিন। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘শাকিলা আমাদের মাদ্রাসায় রান্নার কাজ করত। আর সাইফুল কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করত। মাদ্রাসার সব চাবি থাকত সাইফুলের কাছে। ২৪ ও ২৫ অক্টোবর শুক্র-শনিবার থাকায় মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। ২৬ অক্টোবর সকালে মাদ্রাসা বন্ধ দেখে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আমাদের ফোন দেয়। আমরা বিকল্প চাবি দিয়ে মাদ্রাসা খুলে পাঠদান শুরু করি। কিন্তু সাইফুলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও, কল দিলে তা ধরেনি।’

ওইদিনই সাইফুলের নিখোঁজের বিষয়টি তার পরিবার ও পুলিশকে জানানো হয় উল্লেখ করে আলিম উদ্দিন বলেন, ‘এরই মধ্যে শাকিলার মা এসে জানান, তিনি মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছেন না। দুজনের নিখোঁজের বিষয়ে ২৭ অক্টোবর থানায় জিডি করেন শাকিলার মা।’

এ দুজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে মামলা করেছে মৃত শাকিলার পরিবার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাড্ডা থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গুরুত্বসহকারে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। কয়েকজনকে সন্দেহর তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই বেশি কিছু প্রকাশ করছি না। দ্রুতই আসামি গ্রেপ্তার করা হবে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন জামায়াত আমির

সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, আলোচনায় নাসিম ফারুক খান মিঠু

বিশ্বকাপে সেদিন আবির্ভাব হয়েছিল এক ‘ফুটবল দেবতার’, নাম তার ম্যারাডোনা

লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার

বাজেট ২০২৬-২৭ / মানবসম্পদ উন্নয়নের রূপরেখা চান বিশেষজ্ঞরা

সেই তিন ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে জমা হলো ১২ লাখ টাকা

চমেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, ইনডোর ও আউটডোর শাটডাউনের হুঁশিয়ারি

এনসিপির ফল উৎসবে হামলা

সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে

মেহেদী অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, কারাগারে দুই যুবক

১০

বিএমডিসির নিবন্ধনবিহীন চিকিৎসকের পক্ষে মানববন্ধন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

১১

ফেনী জেলা বিএনপির মিডিয়া সেলের কমিটি অনুমোদন

১২

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সংসদ সচিবালয়ের তদন্ত কমিটি

১৩

সাভার থানা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা, সভাপতি মাশফি-সম্পাদক সামির

১৪

‘বাপের দোয়া’ থেকে ‘ক্রিকেটের দোয়া’ করতে চান তামিম

১৫

‘আমার বউ নিয়ে গেছে, তাই আমি ওর বউ নিয়ে এসেছি’

১৬

জঙ্গল সলিমপুরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিলেন এসপি মাসুদ আলম

১৭

বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে টিভির শোরুমে ক্রেতাদের ভিড়

১৮

কোরআনে হাফেজার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

১৯

ইরান চুক্তি না করলে আবারও যুদ্ধ শুরু হবে : ট্রাম্প

২০
X