কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় ত্রাণ প্রবেশ ও বিতরণের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে

গাজায় ত্রাণ প্রবেশ ও বিতরণের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটিতে মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ ও বিতরণ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সিভিল-মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের (সিএমসিসি) হাতে যাচ্ছে। বর্তমানে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা ইসরায়েলি বাহিনীকে সরিয়ে সিএমসিসি পুরো কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

দুই বছরের ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় ত্রাণ প্রবেশ ও বিতরণ বাধাগ্রস্ত করার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে ইসরায়েল চরম খাদ্য সংকটে থাকা গাজায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক অত্যাবশ্যকীয় পণ্য প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গড়ে মাত্র ১০০টির মতো ট্রাক প্রবেশ করতে পেরেছে। এমন পরিস্থিতিতে ত্রাণ প্রবেশ ও বিতরণ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ সিএমসিসির হাতে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবর জানা গেল। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহের দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ত্রাণ কার্যক্রমের তদারকি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সিএমসিসির হাতে গেলেও ইসরায়েলও এ প্রক্রিয়ার অংশ থাকবে। তবে কী ধরনের ত্রাণ সহায়তা গাজায় ঢুকবে এবং কীভাবে তা বিতরণ হবে, সে সিদ্ধান্ত সিএমসিসিই নেবে।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ হামলায় একজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে, পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে (১০ অক্টোবর) গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ২৪১ জন নিহত এবং ৬১৪ জন আহত হয়েছেন। এতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৬৯ জনে। এ সময়ে আহত হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৮৫ জন। এ ছাড়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী রাফা ও খান ইউনিসের কাছে অনেক আবাসিক ভবন ধ্বংস করে দিয়েছে বলে আলজাজিরা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজার ৯২ শতাংশ আবাসিক ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

গাজায় পানীয় জল বিষাক্ত, বাড়ছে ঝুঁকি: গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ কেবল ঘরবাড়ি ধ্বংস, চিকিৎসা ব্যবস্থার বিনাশ এবং মানুষের স্থানচ্যুতি ঘটায়নি, ফিলিস্তিনিদের জীবনধারণের অন্যতম ভিত্তি মাটি ও পানিকেও বিষাক্ত করে তুলেছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পয়ঃনিষ্কাশন কাঠামো ধ্বংস, পাইপযুক্ত ব্যবস্থার বিনাশ এবং শৌচাগার হিসেবে সেসপুলের ব্যবহার মাটির নিচে থাকা পানির স্তরকে দূষিত করেছে, যা গাজায় সুপেয় পানির প্রধান উৎস। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আল-জেবেন ব্রাজিলে কপ-৩০ জলবায়ু সম্মেলনে এ ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, দুই বছর ধরে গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞে প্রায় ৬১ মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেক দূষিত পদার্থ রয়েছে। এর পাশাপাশি পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংসের ফলে ভূগর্ভস্থ এবং উপকূলীয় পানি দূষিত হয়েছে। গাজা এখন গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন, যেখানে খাদ্যের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসরায়েলি হামলায় গাজার কৃষি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আরও এক ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত: হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গাজা যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে শুক্রবার আরও একজন মৃত ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষ হস্তান্তর করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, মরদেহটি লিয়র রুডায়েফের। অক্টোবর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে হামাস ইসরায়েলে আটক প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি ও যুদ্ধকালীন আটক ব্যক্তির বিনিময়ে গাজায় রাখা ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেয়। এ চুক্তিতে ২৮ জন মৃত জিম্মির দেহাবশেষের বিনিময়ে ৩৬০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তরেরও কথা ছিল। রুডায়েফসহ এখন পর্যন্ত ২৩ জন জিম্মির দেহাবশেষ ফেরত দেওয়া হয়েছে, যার বিনিময়ে ইসরায়েল ৩০০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করেছে।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা: অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও ক্রমশ বাড়ছে। সর্বশেষ নাবলুসের কাছে বেইটা শহরে ফিলিস্তিনি কৃষকরা গাছ থেকে জলপাই সংগ্রহের সময় বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালিয়ে অন্তত সাতজনকে মারধর করে। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতে, কয়েকজন গুরুতরভাবে আহত হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এ ছাড়া, বসতি স্থাপনকারীরা হেবরন গভর্নরেটের ইয়াত্তা শহরের কাছেও হামলা চালিয়েছে। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা সহিংস হামলার ঘটনা অক্টোবরেই দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। রামাল্লার কাছে আবু ফালাহ গ্রামে বসতি স্থাপনকারীরা এক বাসিন্দার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গুলি চালায়, যদিও এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা: লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের আইন আতা ও শেবা শহরের মধ্যে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই ভাই নিহত হয়েছেন। এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল সম্প্রতি লেবাননে হামলা বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অভিযোগ, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পুনরায় অস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন চেষ্টা চলতে থাকলে ইসরায়েল ‘প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেবে’।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফুটবল খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের 

ভারতীয় নাগরিকদের পুশইনের চেষ্টা / সীমান্তে উত্তেজনা, শক্ত অবস্থানে বিজিবি 

আজ রাতে তেহরান পুড়বে : বেন-গাভির

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইসরায়েলজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি

ভূমিকম্পের সময় যে দোয়া পড়বেন

বাসচালককে মারধর ও ছাত্রদল কর্মীকে কোপানোর অভিযোগ  

দেশের যেসব জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল যেখানে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই শিশুর

চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি

১০

আরও বাড়ল ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়

১১

লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে আবারও যুদ্ধে নামব : ইরান

১২

‘বিশ্ব এলপিজি দিবস-২০২৬’ উদযাপন করল ফ্রেশ এলপি গ্যাস

১৩

আর্জেন্টিনা যেন মিনি হাসপাতাল!

১৪

বিশ্বকাপ এলেই রং বদলান নেইমার

১৫

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন জামায়াত আমির

১৬

সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, আলোচনায় নাসিম ফারুক খান মিঠু

১৭

বিশ্বকাপে সেদিন আবির্ভাব হয়েছিল এক ‘ফুটবল দেবতার’, নাম তার ম্যারাডোনা

১৮

লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার

১৯

বাজেট ২০২৬-২৭ / মানবসম্পদ উন্নয়নের রূপরেখা চান বিশেষজ্ঞরা

২০
X