মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শেখ হারুন
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৮ এএম
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্প উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধিতে ধস

বিবিএসের তথ্য
শিল্প উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধিতে ধস

করোনা মহামারির শুরুর দিকে দেশের শিল্প উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের ধস নেমেছিল। তখন মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমেছিল তলানিতে। কিন্তু পরে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় এই খাতের প্রবৃদ্ধি। বাড়তে থাকে জিডিপিতে শিল্প উৎপাদন খাতের অবদান। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের এসে আবারও ধস নেমেছে এই খাতের প্রবৃদ্ধিতে। বিশেষ করে বড় শিল্প উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধিতে অবনমন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বড় শিল্পের প্রবৃদ্ধি নেমেছে প্রায় অর্ধেকে।

সাধারণত উৎপাদনের প্রধান উপকরণগুলোর মধ্যে অন্যতম ভূমিকায় থাকে গ্যাস-বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল এবং বিনিয়োগ। এই খাতগুলোর প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই খাতগুলোর প্রবৃদ্ধি তলানিতে নামায় উৎপাদনের ওপর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে বড় শিল্প উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয়েছে। এজন্য দায়ী মূলত জ্বালানি খাতের নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসেবে দেখা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় দেড় শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি কমেছে উৎপাদন খাতে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থবছরের শুরুতে ডলার সংকটের কারণে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নসহ বৈশ্বিক সংকটের ধাক্কা সামলাতে হয়েছে দেশের শিল্প খাতকে। পাশাপাশি বৈদেশিক এবং ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় শিল্পের উৎপাদন কমে গেছে। এসব কারণেই জিডিপিতে খাতটির প্রবৃদ্ধি কমে গেছে।

এ বিষয়ে সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান কালবেলাকে বলেন, কয়েক বছর ধরে দেশে বিনিয়োগ আসার পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়েছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ অনেক কমে গেছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক বিনিয়োগও কমেছে। বিনিয়োগ কমায় শিল্পের উৎপাদনও কমে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে শিল্প উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধিতে। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

উৎপাদন খাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির এই হার ছিল ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রায় আড়াই শতাংশ কম। আর ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে গত অর্থবছরে।

উৎপাদন খাতের মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবনমন হয়েছে বড় শিল্প উৎপাদন খাতে। এই খাতে অর্থবছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। জিডিপির তথ্যে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বড় শিল্প উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৫.৬৮ শতাংশ। সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থবছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বড় শিল্পের পাশাপাশি কুটির শিল্পের প্রবৃদ্ধিও কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কুটির শিল্পে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, আগের অর্থবছরে ছিল ১১ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থবছরের ব্যবধানে এ খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১ দশমিক ১১ শতাংশ।

তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) প্রবৃদ্ধিতে। বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বড় শিল্পগুলোর প্রবৃদ্ধি অর্ধেকে নামলেও প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এসএমই খাতের প্রবৃদ্ধি। ২০২১-২২ অর্থবছরে এসএমই খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক অর্থবছরের ব্যবধানে এই খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ।

এদিকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতেও প্রবৃদ্ধি কমেছে ব্যাপক হারে। গত বছর বিদ্যুৎ খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সে হিসাবে এ খাতের প্রবৃদ্ধি কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। এ ছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতে প্রবৃদ্ধি অনেক কমে গিয়েছিল।

অন্যদিকে গ্যাস উৎপাদনে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে গ্যাস খাতে দশমিক ৬১ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা আরও বেশি নেতিবাচক হয়েছে। এ সময় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। সাধারণ শিল্পগুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের। গত অর্থবছর দেশের শিল্প খাত আগের অর্থ বছরের তুলনায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ কম পেয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ উপখাতগুলোয় প্রবৃদ্ধি ব্যাপক হারে হ্রাস পাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিল্প উৎপাদন খাতে। এতে প্রবৃদ্ধিও কম হয়েছে।

গ্যাসের উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) কমার পাশাপাশি গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের উত্তোলনও অনেক কমে গেছে। গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য উত্তোলনে গত দুটি অর্থবছরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। গত অর্থবছর এ খাতে ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর আগের অর্থবছর নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

তবে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে কয়লা উত্তোলনে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ১৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, যা প্রবৃদ্ধির সব উপাদানের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কয়লা উত্তোলন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে করেন বিশ্লেষকরা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডিজি ছাড়া ইসিতে এনআইডি সেবা বন্ধ, সেবা মিলবে মাঠে

এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ, ‘প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে’ দাবি নাহিদের

সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: নাহিদ ইসলাম

পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স পিএলসিতে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

এক উপদেষ্টাসহ আওয়ামী লীগের ৪ নেতার পদত্যাগ

শুধু ব্রাজিল নয়, ভারতকেও দুঃস্বপ্ন দেখিয়েছিলেন হালান্ড

দাবি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার / আমি কখনো কাউকে স্যার সম্বোধন করতে বলিনি

সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ, আহতদের পরিচয় প্রকাশ

রিহ্যাব সদস্যের সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

মেয়াদ শেষের আগেই নিয়োগ বাতিল ডেপুটি গভর্নরের

১০

বৃষ্টি নামলেই বুক কাঁপে ফেনীবাসীর

১১

এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের পর থানা ঘেরাও

১২

টঙ্গীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

১৩

রিজার্ভ আরও বাড়ল

১৪

১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

১৫

ব্রাজিলের বিদায়ের পর বাংলাদেশি ভক্তদের ধন্যবাদ জানালেন রাষ্ট্রদূত

১৬

মিসর ম্যাচের আগে স্বস্তির খবর পেল আর্জেন্টিনা

১৭

এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩

১৮

জাবি শিক্ষার্থীকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, ৬ বাস আটক

১৯

সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ / সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

২০
X