শাহনেওয়াজ খান সুমন
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

অপপ্রচারে টার্গেটের শিকার

অপপ্রচারে টার্গেটের শিকার

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিতে পরিণত হন তারেক রহমান। সে সময় বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ও তারেক রহমানের দূরদৃষ্টি, বিচক্ষণতা ও কঠোর পরিশ্রমে বিএনপি ১৯৩টি আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে ৬২টি আসনে। সেই পরাজয় মেনে নিতে না পেরে আওয়ামী লীগ শুরু করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, নতুন মিশন। ‘টার্গেট তারেক’ মিশন। চার ধাপে এ মিশন বাস্তবায়ন করা হয়। প্রথমে পরিকল্পিতভাবে প্লট তৈরি করে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরে মিথ্যা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা সেই মিথ্যাচার নিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জনসমাবেশে বক্তব্য-বিবৃতি দিতে থাকেন। তৃতীয় ধাপে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য পুঁজি করে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী এবং মিডিয়া সেই মিথ্যাচার নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি শুরু করে। চতুর্থ এবং শেষ ধাপে প্রচারিত সব মিথ্যাচার একসঙ্গে ইংরেজি অনুবাদ করে, সিডি ভিডিও এবং বুকলেট বানিয়ে বিদেশিদের কাছে তারেক রহমান, বিএনপি সরকার এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লাগাতার ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াতে থাকে আওয়ামী লীগ।

তবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা অভিযোগ তুলে একটিও প্রমাণ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস দাবি করেন, তারেক রহমান দেশের শীর্ষ ধনীদের একজন। সেই বছরের জুলাইয়ে প্রথম এই দাবি করেন মুকুল বোস। সে সময় আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, তারেক রহমান ২২ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন।

দেশি-বিদেশি কোনো সংস্থা নয়, তারেক রহমানকে শীর্ষ ধনীর তকমা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এ কাজটি করেছিল দলটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ অন্যায়ভাবে কোনো মামলা ছাড়াই তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল তারেক রহমানের চরিত্রে এমনভাবে কালিমা লেপন করতে যেন তিনি আর রাজনীতিতে ফিরতে না পারেন।

২০০৭ সালে তারেক রহমান দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সম্পদ বিবরণী জমা দেন। আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির প্রচার চালালেও দুদক ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া এবং সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে। আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে তারেক রহমানের দাখিল করা হিসাবের বাইরে সম্পদ খুঁজে পায়নি দুদক। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের চাপের মুখে আদালত তারেক-জুবাইদা দম্পতির অপ্রদর্শিত সম্পদ ২ কোটি ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭ টাকা উল্লেখ করে সাজা দেন। যদিও তারেক রহমানের আইনজীবীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রায়টি নীতিভ্রষ্ট। কারণ, যে তিনটি সম্পত্তিকে তারেক রহমানের অপ্রদর্শিত সম্পদ হিসেবে দেখিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তিনি কখনো দাবি করেননি, দখলও নেননি। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতারা এবং সিআরআই এ বিষয়গুলো গোপন করে তারেক রহমানবিরোধী প্রচার চালায়। কিছু সংবাদমাধ্যম সেগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ করায় তারেক রহমান এবং হাওয়া ভবন বিতর্কিত হয়। আওয়ামী লীগ ও সিআরআইর দাবি ছিল, হাওয়া ভবনের কারণে ২০০১ থেকে পরের পাঁচ বছর বাংলাদেশ টিআইবি ধারণা সূচকের দুর্নীতিতে ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ হয়।

টিআইবি ২০০১ সালের যে ধারণা সূচক প্রকাশ করে, সেই সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল মাত্র ২ মাস ২০ দিন। বাকি সময়ে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আগের সরকারের জেরে বিএনপি শাসনামলে দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন তকমা পেতে হয় বিএনপিকে। পরের চার বছরে ক্রমাগত উন্নতি করে বাংলাদেশ। বিএনপি যখন ২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা ছাড়ে সেই সময়ে শীর্ষ থেকে তৃতীয়স্থানে উন্নীত হয় বাংলাদেশ। কিন্তু ২০০৬ সালের ধারণা সূচক পরের বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত হওয়ায় বিএনপি সেই কৃতিত্ব পায়নি।

হাওয়া ভবনের প্রভাব খাটিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং পাচারের অভিযোগ তোলা হয়। হাওয়া ভবন সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায়। এ মামলায় তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার ভিত্তি ছিল হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের জবানবন্দি। কিন্তু মুফতি হান্নান ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, তাতে তারেক রহমান বা বিএনপির বিষয়ে কিছুই বলেননি। মুফতি হান্নান ৩৪৭ দিন রিমান্ডে থাকার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে ২০১১ সালেই তিনি এ জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, তাকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, সোশ্যাল মিডিয়া সব সেক্টরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার থেমে নেই। বিএনপি নেতাদের অভিমত, তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে দেশ পুনর্গঠনে তারেক রহমানের স্বপ্নই তার এবং তার দলের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অন্যতম প্রধান কারণ। হীনম্মন্যতা ও ঈর্ষা থেকে কিছু দল ও গোষ্ঠী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, যা অপরাজনীতি ছাড়া কিছু নয়।

বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান কালবেলাকে বলেন, তারেক রহমান গত ১৫ বছরে সত্যিকার অর্থেই অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলে তার বিরুদ্ধে মিডিয়ায় নানানরকমের কল্পকাহিনি প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু কোনো আদালতে এটা প্রমাণিত হয়নি। তারপরও তার বক্তব্য প্রচারে আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। আসলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ তারেক রহমানকে ভয় পেয়েছিল বলেই এটি করেছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, গণমানুষের কাছে তারেক রহমানের যে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা, এটা পতিত স্বৈরাচার জানত। এ কারণে রাজনৈতিকভাবে তারেক রহমানকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে আইন-আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার বাকস্বাধীনতাকে হরণ করেছিল তারা। তার কোনো বক্তব্য প্রচার করতে দেয়নি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি মহল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে। সেই চক্রান্তের একমাত্র লক্ষ্য হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা, যা খুব কম রাজনীতিবিদের মধ্যে আছে। তারেক রহমান নিঃসন্দেহে আমাদের স্বপ্ন, আমাদের ভবিষ্যৎ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী

৫ কার্যদিবসে মামলার রায় একটি ‘মাইলফলক’: রাষ্ট্রপক্ষ

দেশে ফিরেছেন ৩৭৪৩৫ হাজি

দক্ষিণ লেবাননে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত

চার বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

রামিসা হত্যা মামলা / ৩ মাসের মধ্যে এ বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা : প্রধানমন্ত্রী

কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন লেবাননে নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী

৬ কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন, ইতিহাসে প্রথম: আইনমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বন্দুকধারীর মধ্যে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১২

১০

হাইকোর্টে নথি পৌঁছলে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল 

১১

রামিসা হত্যা মামলা : আদালতের রায়কে স্বাগত জানাল জনতা

১২

নদীর চরে পড়ে ছিল জেলের মরদেহ 

১৩

সিলেট সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল জোরদার

১৪

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ সেই শিশুর বাবার, দ্রুত কার্যকরের দাবি

১৫

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিহত

১৬

মধ্যস্থতার বার্তা নিয়ে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৭

নতুন বাজেটে পে-স্কেল নিয়ে বড় ধামাকা

১৮

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / বড় অঙ্কের জরিমানাও দিতে হবে সোহেল-স্বপ্নাকে

১৯

 বাহরাইন-কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

২০
X