

এখন কী কিছুই করতে পারে না ওআইসি আরব লিগ অথবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন? ওরা কি বোবা, নিথর, নিস্তব্ধ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা স্টাচু অব লিবার্টি? হাস্যকর লেনিনের মূর্তি?
নাকি ওরা পেন্টাগন ও টুইন টাওয়ারের মতো ধ্বংসের ধোয়া যা বরাবরই মিশে যেতে পছন্দ করে বৈষম্যময় নিষ্ঠুর পর্দার আড়ালে। তবে ধ্বংস হোক জাতিসংঘ, তার সমস্ত অনুচর।
ব্যাঙের ছাতার মতো ধ্বংস হোক ওদের সভ্যতা, হেরে যাক বসরাই গোলাপের কাছে লাল, শাদা, প্রাচুর্যময় সবুজ গোলাপ... প্রতারক পিতার মতো ধ্বংস হোক পৃথিবীর পচা ডিম অথবা এই জাতিসংঘ। বুশ-ব্লেয়ার-শ্যারন কি একেকজন পিতা?
না, পিতা নয় ওরা ধ্বংসের প্রাচুর্য এবং অবশ্যই ওরা নিমিজ্জত হবে হুতামায়। তুমি জানো হুতামা কি? হুতামা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি; যা জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে এবঙ লাগামাত্রই হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ধ্বংস হোক আরব লিগ ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন ওআইসি জাতিসংঘ অথবা এখনই সরে যাক পৃথিবী থেকে ইঙ্গ-মার্কিন পতাকা পৃথিবীর রক্ত-বমি যেনো মানুষের সবগুলো চিৎকারের নাম হয় শাস্তি।
২. আমরা ভুলে যেতে চাই ইউরোপ-আমেরিকা, আটলান্টিকের দূষিত পানি কেশর ফোলানো সাদা শয়তান, সমকামী বেয়াদব জিনের গর্জন ধ্বংস, পুঁজি ও সাম্রারাজ্যবাদের দেয়া পক্ষপাতিত্বের পঙ্ক্তিমালা যেনো আমাদের নদী ও নারী জন্মিত পাপড়িগুলোকে পৌঁছে দিতে পারি নীরব নিরাপদে।...
এবঙ আমাদের সবুজ পৃথবীতে বিদ্যুতের করতালির মতো অবশ্যই তরঙ্গিত হবে পাখিদের ঝরনা একটা বিশাল বিমূর্ত জলরঙের সাদা ল্যান্ডস্কেপ। থাকবে না কোনো বৈষম্য বা হননলিপ্সা ডুকরে ওঠা শোকের সমষ্টি- সাগর। জবাই করা ইরাক আফগানিস্তান ফিলিস্তিন কাশ্মীর বিধ্বস্ত জনপদে উড়ে যাবে পৃথিবীর সুন্দর শাদা পায়রা ও রাজহাঁস।
৩. ও মানুষের রক্তাক্ত বমি, ঘৃণার বেতফল, পৃথিবীর প্রথম কালো নৈঃশব্দময় আমেরিকা! একটা পাখিও তোমাদের কথা শুনবে না শুনবে না সাগর নদী গাছ মাছ পিঁপড়েরা তোমাদের কথা; একটা কুকুরও চাটবে না তোমাদের শাদা শয়তানি চুল।
স্তব্ধ হয়ে যাবে সাগর সময় ও তোমাদের ভাষা। আর তোমাদের ঋণের আট অংশের মালিক এখন চীনারা, ক্রমেই কমে যাচ্ছে তোমাদের জিডিপির অবদান। প্রচণ্ড বেলেল্লাপনা, উশৃঙ্খলতা ভোগবাদীই তোমাদের ধ্বংসের মূল কারণ। তোমাদের সমস্ত সামরিক বাজেট দিয়ে মুছে ফেলা যায় পৃথিবীর অসংখ্য দারিদ্র্যতা।
তোমাদের অবস্থা এখন চতুর্থ পর্যায়ের কোনো ভয়ানক এইডস রোগীর মতোন যার কোনো গতি নেই। দিশাহারা। তোমাদের এই ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ই বলে দেয় পৃথিবীতে তোমাদের আর কোনো কর্তৃত্ব নেই। অতএব, হে অন্ধকার জীর্ণ সভ্যতা! তোমরা এখনই, ফিরিয়ে আনো ধ্বংস করা সবুজ পৃথিবী।
এবঙ ক্যানো তোমরা অপবিত্র করলে দজলা-ফোরাত, বসরা আর বাগদাদের সুন্দর সুরম্য নগরী? ক্যানো শুধু আফগানে মানুষ মারার জন্য খরচ করলে ২৪০ কোটি পাউন্ড? এবঙ ক্যানো একই সঙ্গে তোমরা রাশিয়া চীন ইরান আর ভারতকে খুব ভয় পাচ্ছো?
যেনো তোমরা জেনে গ্যাছে যে কোনো মুহূর্তে ওরা তোমাদের পরিণত করতে পারে রেডিও অ্যাকটিভ ছাইয়ে ওদের- পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নিয়েও তোমরা বড় বেশি উদ্বিগ্ন! বলো, ‘পেরিমিটার’ নামে পরিচিত রাশিয়ার ডেড হ্যান্ড সিস্টেমকে তোমরা ক্যানো এতো ভয় পা”েছা? পৃথিবীতে বড় কে ভ্লাদিমির পুতিন না বারাক হোসেন ওবামা?
ও ঘৃণার রক্তাক্ত বমি, প্রতারক মার্বেল! ক্যানো, ক্যানো বাজে বেশ্যা রমণীর মতো চুম্বন করলে মরুময় প্রান্তর আরব ভূমি, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দুর্দান্ত আওয়াজ? তবে কি তোমরা জানো না আমাদের পৃষ্ঠদেশ অথবা দেয়ালে কোনো ভীরু ইট বা কলঙ্কিত ওষ্ঠের চুম্বন নেই।... এখানে আমরাই শুধু কাপুরুষতার বদলে পদ্মার ঐশ্বর্যমণ্ডিত ভাজা ইলিশ খেতে দেই।
৪. আজ, আজকে বড় হাস্যকর তোমাদের এই বেঁচে থাকা। যেহেতু তোমাদের হাত ফসকে বেরিয়ে গেছে মানুষের মূলমন্ত্র পৃথিবীর সভ্যতা।... আর তোমরা এখন না মানুষ না যন্ত্র রোবট তোমাদের অতি আশ্চর্যরকম ঘৃণা করে।
অতএব, তোমাদের আর কিছুই রইলো না যেমন একদিন ‘অ্যানোলা নে’ বিমান থেকে বোমারুরা বোমা ফেলার পর সেখানে আর কিছুই ছিলো না। আর বলো, তোমাদের এখন কেমন লাগছে যখন আক্ষরিক অর্থেই যখন ধসে হয়ে গেলো পেন্টাগণ ও টুইনটাওয়ার যদিও তোমরা অরক্ষি- অতএব বলো, তোমাদের শাদা শয়তানি সভ্যতার মর্মান্তিক মৃত্যুদৃশ্য দেখতেই বা তোমাদের কেমন লাগছে? শাদা শয়তানি সভ্যতার মর্মান্তিক মৃত্যু দৃশ্য...
কবি পরিচিতি : মৃধা আলাউদ্দিন। মাতা : ফুলবানু বেগম। পিতা : মৃত মোসলেম মৃধা। কবি, কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক। মৃধা নব্বই দশকের অন্যতম নিভৃত কবিদের অন্যতম একজন। লিখছেন গল্প, কবিতা, ছড়া ও সমালোচনা সাহিত্য। দেশের জাতীয় দৈনিক ও লিটলম্যাগে নিয়মিত তার লেখা ছাপা হচ্ছে। মৃধা একজন ছন্দ সচেতন নাগরিক কবি। তার কবিতায় উঠে এসেছে সমাজের কুসংস্কার, নীতিহীন-বিপ্রতীব সময়ের ছবি, নোংরা রাজনীতি এবং একই সাথে নিপুণ কারিগরের মতো মৃধা তার কবিতায় প্রেম, দ্রোহ ও ভালোবাসার গান গেয়েছেন। সমাজ বিনির্মাণের গাথা কবিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছে। কবির দোঁহাগুচ্ছ কাপলেটে পরিণত হয়েছে বলেই পাঠক সমাজের দৃঢ় বিশ্বাস। নিঃসন্দেহে বলা যায় সমালোচনা সাহিত্যে কবি তার নিজস্ব জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। কবি মৃধা আলাউদ্দিনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ রৌদ্দুরে যায় মন (প্রকাশকাল : ২০০৫), রেলগাছ। ২. সামনের শীতে মানুষ রৌদ্র হবে (প্রকাশকাল : ২০২০), প্রকাশক : বার্নম এন্ড নোবল, নিউইয়র্ক। প্রকাশিতব্য গ্রন্থ : প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ (কাব্যগ্রন্থ), জঙধরা পিনালকোড (গল্পগ্রন্থ), চড়ুইয়ের চিড়িপ চিড়িপ শব্দ (কিশোর কবিতা), শুঁড়িখানার নরম দেহ (দোঁহা কাব্যগ্রন্থ), অল্পকিছু বিষ প্রয়োজন (দোঁহা কাব্যগ্রন্থ), আল মাহমুদ ও অন্যান্য সন্দর্ভ প্রভৃতি। কবি মৃধা আলাউদ্দিন দুই ছেলে সন্তানের জনক। মৃধা শব্দশীলন সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও চেয়ারম্যান। পুরস্কার ও সম্মাননা : অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক। বঙ্গভূমি সাহিত্য সম্মাননা, বঙ্গভূমি সাহিত্য পরিষদ। শীর্ষবিন্দু সাহিত্য পদক, শীর্ষবিন্দু লিটলম্যাগ। বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতিপ্রাপ্ত ক্রেস্ট ও স্বর্ণপদক। সম্পাদনা : একটি কাব্যভাঁজ (লিটলম্যাগ প্রায় ১০টি সংখ্যা বের হয়ে অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে লিটলম্যাগটি)। মৃধার সম্পাদনায় বের হয়েছে সিলেটের মরহুম কবি মিছবাহুল ইসলাম চৌধুরীর কবিতা ‘শেরশাহ’ (একটি মহাকাব্য)। কবি মৃধা আলাউদ্দিন বর্তমানে একটি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত আছেন।