রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

হাটে উঠল হাঁড়িভাঙা, ৩০০ কোটির বাণিজ্যের আশা

আম সংগ্রহ শুরু। ছবি : কালবেলা
আম সংগ্রহ শুরু। ছবি : কালবেলা

জিআই স্বীকৃত রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে সোমবার। অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে এবার ফলন কিছুটা কম হলেও আমের আকার ভালো হওয়ায় এবং বাজারদর তুলনামূলক বেশি থাকায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি বাণিজ্যের আশা করছেন কৃষি বিভাগ ও চাষিরা।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকার একটি বাগান থেকে হাঁড়িভাঙা আম পেড়ে বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

পরে পদাগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। সভা শেষে পদাগঞ্জ হাট পরিদর্শন করে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক।

মতবিনিময় সভায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বাজারজাতকরণে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ব্যাংকিং সুবিধা, হাটে স্থায়ী শেড, ওয়াশ সুবিধা, হিমাগার নির্মাণ এবং জিআই পণ্য হিসেবে হাঁড়িভাঙা আম রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান।

আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের প্রথম দিনেই পদাগঞ্জ হাটে বিপুল হাঁড়িভাঙা আমের আমদানি দেখা যায়। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে বেচাকেনা তেমন জমেনি। উদ্বোধনের পর লেনদেন শুরু হয়। বিক্রেতারা জানান, প্রতি মণ হাঁড়িভাঙা আম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিলাবৃষ্টিতে অনেক আম ঝরে পড়ায় ফলন প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। ফলে ভালো দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে তাদের।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ থেকে ১২ টন ফলন পাওয়া যায়। জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পরিপক্ব ও উন্নত মানের আম বাজারে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তবে মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। হাঁড়িভাঙার প্রধান মোকামখ্যাত পদাগঞ্জ হাটে এখনো আধুনিক বিপণনব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। হাট ও আশপাশের সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে আম পরিবহন ও বিক্রিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

পদাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সজীব শেখ বলেন, প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার আম কেনাবেচা হলেও হাটের অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। এখনো কাদামাটির মধ্যেই ব্যবসা করতে হচ্ছে।

হাঁড়িভাঙা আমের প্রবর্তক নফল উদ্দিন পাইকারের ছেলে ও আমচাষি আমজাদ হোসেন পাইকার বলেন, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরও উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। পদাগঞ্জ এলাকায় রাস্তা, আবাসন, ব্যাংকিং সুবিধা ও স্থায়ী বিপণন শেডের অভাব রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।

বিষমুক্ত, আঁশহীন ও সুমিষ্ট স্বাদের কারণে হাঁড়িভাঙা আমের চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ছে। রংপুর সদর, মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ আমের চাষ হচ্ছে। মৌসুমকে ঘিরে পরিবহন, বিপণন ও শ্রমনির্ভর বিভিন্ন কাজে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিলাবৃষ্টিতে কিছু আম ঝরে পড়লেও সামগ্রিকভাবে ফলন ভালো হয়েছে। আমের আকারও বড় হয়েছে। ফলে কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তার আশা, এবার হাঁড়িভাঙা আমের বাণিজ্য ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ নায়ক থেকে রাতারাতি সোস্যাল মিডিয়া তারকা কেপ ভার্দে গোলরক্ষক 

সংবাদিক আবদুল হাই সিদ্দিকের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সেই ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু, মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন ধর্মমন্ত্রী

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ সাদা মটমটিয়া

সমতায় শেষ ইরান-নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত লড়াই

আজকের নামাজের সময়সূচি

আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

পারদ গলল ইরান-যুক্তরাষ্টের, হিম হচ্ছেন নেতানিয়াহু?

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একের পর এক পুশইনচেষ্টা প্রতিহত বিজিবির

পিরোজপুরে মায়ের হাতে ছেলে খুন

১০

দক্ষিণ লেবাননে ৩০ সেনা সদস্য হারাল ইসরায়েল

১১

দুপুরে কাজ নিষিদ্ধ করল সৌদি সরকার

১২

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আশাবাদী লেবানন

১৩

স্পেনের ফুটবলারের সাড়ে ৮ বছরের কারাদণ্ড 

১৪

হাটে উঠল হাঁড়িভাঙা, ৩০০ কোটির বাণিজ্যের আশা

১৫

উন্মুক্ত হলো হরমুজ, শুরু হলো জাহাজ পারাপার

১৬

ফরিদপুরে যুবলীগ নেতাসহ আটক ২

১৭

সৌদি আরব-উরুগুয়ে ম্যাচে গোলাপি জার্সিতে রেফারি, কারণ জানাল ফিফা

১৮

নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে : ইরানের প্রেসিডেন্ট

১৯

বল যখন ভেতরে ঢুকতে চায় না, তখন কোনোভাবেই ঢুকবে না : স্পেন কোচ

২০
X