কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বাজার সংস্কারে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ছবি : সংগৃহীত
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছেন মাসুদ খান। গত বৃহস্পতিবার দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবার রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সামনে কঠিন পথ রয়েছে।

তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ যেমন একটি সম্মানের বিষয়, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বও।

ফেসবুক পোস্টে বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান বলেন, গত কয়েক দিনে আমি যে বিপুল পরিমাণ শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও সমর্থনের বার্তা পেয়েছি, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে বিনম্র ও সম্মানিত বোধ করছি।

তিনি বলেন, আমি পুরোপুরি উপলব্ধি করি যে, দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে, বাজারকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সহজ কাজ নয়। আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, এই দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত মোটেই সহজ ছিল না। অতীতের চেয়ারম্যান ও কমিশনগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এই দায়িত্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নের প্রচেষ্টার সঙ্গে নানা ধরনের ঝুঁকি জড়িত। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে সামনে থাকা কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন যে মানুষের প্রত্যাশা কখনও কখনও স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।

ফেসবুক পোস্টে মাসুদ খান আরও লেখেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ব্যক্তিগত ত্যাগও জড়িত ছিল। দীর্ঘ ও সফল করপোরেট জীবনের পর এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে গিয়ে আমাকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা এবং একটি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পেশাগত অবস্থান ছেড়ে আসতে হয়েছে। তবে জনসেবার ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং সহকর্মীরা আমাকে এই দায়িত্বকে দেশের জন্য কাজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখতে উৎসাহিত করেছেন। তাদের বিশ্বাস ছিল, অর্থবহ পরিবর্তন আনতে হলে চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা এবং ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হয়। জাতীয় দায়িত্ববোধ এবং জনস্বার্থে কাজ করার এই অনুভূতিই শেষ পর্যন্ত আমার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। তাই আমি বিনয়ের সঙ্গে এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি। সামনে যে কঠিন পথ রয়েছে সে সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ সচেতন। একই সঙ্গে আমি বিশ্বাস করি, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ যেমন একটি সম্মানের বিষয়, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বও।

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান আরও লেখেন, আমাদের কাজ শুধু বাজারকে পুনরুদ্ধার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে, ভালো ও মানসম্পন্ন কোম্পানিকে বাজারে আনতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে, সুশাসন ও স্বচ্ছতা জোরদার করতে হবে, ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে হবে, বিনিয়োগকারী শিক্ষা বাড়াতে হবে এবং বাজারের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।

একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ এবং যেখানে সম্ভব সেখানে নিয়মকানুন সহজ করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে বলে জানান তিনি। আমার মূল নীতি হবে— ‘যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিয়ন্ত্রণ, আর যেখানে সম্ভব সেখানে সরলীকরণ।’

তিনি বলেন, আমি এই দায়িত্ব পালন করবো বিনয়, দৃঢ় সংকল্প এবং গভীর কর্তব্যবোধের সঙ্গে। আমি এটাও বিশ্বাস করি যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একা সফল হতে পারে না। আপনাদের মতামত, পরামর্শ এবং গঠনমূলক সমালোচনা আমি মনোযোগ দিয়ে শুনব এবং সর্বদা পুঁজিবাজার, বিনিয়োগকারী এবং বৃহত্তর অর্থনীতির সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করব।

তিনি আরও বলেন, সারা জীবন ও কর্মজীবনে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এসেছি যে আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। আমার জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এমনভাবে এসেছে, যা আমি আগে কল্পনাও করিনি বা তখন পুরোপুরি বুঝতেও পারিনি। এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সময়ও আমি মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি। ইনশাআল্লাহ, তার দিকনির্দেশনা ও রহমতে আমরা সামনের চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমাদের সামনে যে কাজ রয়েছে তা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নীতিনির্ধারক, পেশাজীবী সংগঠন এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা, সমর্থন ও শুভকামনা নিয়ে আমরা অবশ্যই বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারব এবং একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত, প্রাণবন্ত ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সক্ষম হব’

সবশেষ তিনি লেখেন, আপনাদের উৎসাহ, সমর্থন এবং দোয়ার জন্য আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ। এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব পালনে সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রইলাম।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি হওয়া এক সার্কুলারে বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দিনেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলেও ইরানে শান্তি নিয়ে সংশয় কাটেনি

মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে ফিরলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার

আলুবোখারা চাষে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষি চিত্র

কাবা শরিফে পরানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ 

আজকে স্বর্ণের বাজারদর

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ / সিলেটে ট্রাফিক সপ্তাহ আসে-যায়, যানজট পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না

বিশ্বকাপ নায়ক থেকে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া তারকা কেপ ভার্দে গোলরক্ষক 

সাংবাদিক আবদুল হাই সিদ্দিকের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১০

সেই ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু, মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন ধর্মমন্ত্রী

১১

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ সাদা মটমটিয়া

১২

সমতায় শেষ ইরান-নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত লড়াই

১৩

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪

আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

১৫

পারদ গলল ইরান-যুক্তরাষ্টের, হিম হচ্ছেন নেতানিয়াহু?

১৬

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একের পর এক পুশইনচেষ্টা প্রতিহত বিজিবির

১৭

পিরোজপুরে মায়ের হাতে ছেলে খুন

১৮

দক্ষিণ লেবাননে ৩০ সেনা সদস্য হারাল ইসরায়েল

১৯

দুপুরে কাজ নিষিদ্ধ করল সৌদি সরকার

২০
X