

বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে সবুজ, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কালবেলাকে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যয়ের কথা জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আগামী ১ বছরের জন্য প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। আগামী দুয়েদিনের মধ্যে তিনি এই পদে যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড। এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শহরটিকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান কাজ।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার ওপর যে আস্থা রেখে এই গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার মর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করব। চট্টগ্রামকে একটি প্রকৃত সবুজ নগরী (গ্রিন সিটি) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমি বদ্ধপরিকর। পাহাড়, নদী ও সাগরে ঘেরা এই শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করে টেকসই উন্নয়ন করা হবে।’
সিডিএর নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ‘চট্টগ্রামে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সব সেবা সংস্থাকে একই ছাতার নিচে চলে আসতে হবে। বছরের পর বছর ধরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অন্যান্য সেবা সংস্থার সঙ্গে সিডিএর যে দৃশ্যমান দূরত্ব বা সমন্বয়হীনতা ছিল, তা আর থাকবে না। চট্টগ্রাম নগরীর টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সব ধরনের সমস্যা সমাধানে এবার একটি যুগান্তকারী সমন্বয় নিশ্চিত করে কাজ করা হবে। সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কাদা-ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে একযোগে কাজ করার সংস্কৃতি তৈরি করাই আমার অন্যতম লক্ষ্য।’
নগরীর আবাসন খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামের আবাসন খাতে কিছু সমন্বয়হীনতা রয়েছে। পুরো আবাসন ব্যবস্থাকে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বন্ধ এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিকেরা নিরাপদ আবাসনের নিশ্চয়তা পান।
তিনি আরও বলেন, সিডিএ’র সেবার মান বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে পুরো সংস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করে সেবাপ্রার্থীদের জন্য সিডিএর দরজা সবসময় উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন নতুন এই চেয়ারম্যান।