

রাজধানীর ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আমন্ত্রণে তিনি সেখানে যান।
মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘ধানমন্ডি, নিউমার্কেটসহ এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ একসময় বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) ভেতর দিয়ে ছিল। বিডিআর ট্র্যাজেডির পর সেই পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানানো হলে তিনি গুরুত্ব দিয়ে একটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেন। তবে এটি স্বল্পমেয়াদি কাজ নয়; বাস্তবায়নে অন্তত এক থেকে দুই বছর সময় লাগবে।’
তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ঢাকার খাল-বিল ও প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। ড্রেনগুলোতেও বিপুল পরিমাণ পলিথিন ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যা পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।
‘গতকাল পানির মধ্যে দিয়ে আসার সময় দেখেছি, ড্রেনের ভেতরে হাজার হাজার পলিথিন, এমনকি বালিশও ফেলে রাখা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাই এখন পানি নিষ্কাশনের একমাত্র উপায়। তাই নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে,’ বলেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, সরকার খাল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের পানি শেষ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা কিংবা শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলতে হয়। কিন্তু এ বিষয়ে অতীতে কোনো কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। এবার আমাদের সরকার সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।’
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, কোথায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, তা জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং লার্ভা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ সময় তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুটি ফগার মেশিন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই মেশিন দুটি সংশ্লিষ্ট হলে পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আবার যদি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, আমাদের জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পের মাধ্যমে পানি সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিকদের সহযোগিতা দুটোই জরুরি।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামিসসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।