

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই এলাকায় নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. কামরুলের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় স্থগিত রাখা হলে তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রচার-প্রচারণা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে।
তপশিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ভোটারদের কাছে পরিচিতি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ভোটাররা আরও জানান, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোট কোন দিকে যাবে, তা ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটভুক্ত দলগুলোর আসন সমঝোতা ও শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও চলছে আলোচনা।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সাভার তৎকালীন ঢাকা-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ঢাকা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আফজাল হোসাইন। দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে তার সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে শেষ দিনে দলের সদস্য দিলশানা পারুল মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেননি। এছাড়া ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত তা দাখিল করেননি।
এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল কালবেলাকে বলেন, জোটের প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি। তবে এ বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমি একজন নারী প্রার্থী হিসেবে নারী ভোটারদের যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি।
জামায়াত প্রার্থী মো. আফজাল হোসাইন কালবেলাকে বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবিচার ও নিপীড়নের শিকার। জনগণ পরিবর্তন চায়। আমরা সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কাজ করছি। সারা দেশের ন্যায় ঢাকা-১৯ আসনেও আমি ভিন্ন ধর্মের মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষের সারা পাচ্ছি। প্রত্যেকটা ভোটারের দ্বারে-দ্বারে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কালবেলাকে বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছি। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। বিশেষ করে নারী ভোটারদের অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। কোথাও কোন প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হচ্ছিনা। সাভারের নির্বাচনী মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আমি ছাড়া তেমন কাউকে সেভাবে চোখে পরছেনা,তবে শুনেছি জামাতের প্রার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্পিং করছে এবং নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগে কাজ করছে, তবে একটা জিনিস আমি এখনো শিওর না যে তাদের জোটের তো একাধিক প্রার্থী রয়েছে শেষ পর্যন্ত আসলে কোন প্রার্থী নির্বাচন করবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট বিরোধী বিগত আন্দোলন সংগ্রামগুলোতে আমি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি,নির্যাতিত হয়েছি, কারাবরণ করেছি দিনের পর দিন। আমার বিশ্বাস সাভার আশুলিয়ার জনগণের সিমপ্যাথি এবং ভালোবাসা আমার সাথে আছে। আমি বিশ্বাস করি শেষ পর্যন্ত তাদের রায় হয়তো ধানের শীষের পক্ষেই দিবে। আমি এর আগেও দুইবার এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নিজের সর্বোচ্চ টুকু দিয়ে সেবা করার চেষ্টা করেছি। এবারও নির্বাচিত হলে বিশেষ করে হতদরিদ্র এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ক্লিন ও মডেল সাভার বিনির্মাণে মাদক, সন্ত্রাস,চাঁদাবাজ ও দখল মুক্ত ফুটপাত উপহার দিব সাভারবাসীকে।
মন্তব্য করুন