

ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র ছাড়া কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের ছয়ফুল্লাকান্দিতে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রবল বৈষম্যের ভেতর দিয়ে কোনো সমাজ কখনোই স্থিতিশীল থাকতে পারে না। বৈষম্য মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করে, যা ধীরে ধীরে রাষ্ট্রকেও ভাঙনের দিকে ঠেলে দেয়। তাই ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড়ো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া একটি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশ তাদের দাবি, মতামত ও স্বার্থ প্রকাশের সুযোগ পায় না। জনগণের কথা বলার পথ বন্ধ হয়ে গেলে সমাজের ভেতরে চাপ তৈরি হয়, যা একসময় বিস্ফোরণের রূপ নিতে পারে। রাষ্ট্র যদি জনগণের দাবিগুলো না শোনে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে না আসে, তাহলে সমাজ নানা মাত্রায় বিভক্ত হয়ে পড়ে।
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, এই বিভক্তি শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরেও ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে রাষ্ট্রের ভেতরে ভাঙন তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত অস্থিতিশীলতা, সংঘাত এমনকি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা মানে শুধু একটি নির্বাচন আয়োজন করা নয়; বরং জনগণের মতামতকে সম্মান করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ভোট ও গণতন্ত্রের মাধ্যমেই জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি তুলে ধরতে পারে এবং রাষ্ট্র ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূর করার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি ও গণসংহতি আন্দোলনসহ যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জোনায়েদ সাকি।