কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হাকালুকি হাওরে জঙ্গল, পুরোনো ঐতিহ্যে ফেরার আশা

হাকালুকি হাওরে বনভূমির ছবি। ছবি : কালবেলা
হাকালুকি হাওরে বনভূমির ছবি। ছবি : কালবেলা

সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার ৫ উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। মিঠাপানির এ হাওর ঘিরে রয়েছে অনেক ঐতিহ্য। জলজ, মৎস্য, কৃষি এই তিন উপাদানের জন্য এক সময় হাওরটি বিখ্যাত হলেও জলজ উদ্ভিদ ছাড়া মৎস্য ও কৃষিতে সফলতা রয়েছে হাওরের বুকে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, এশিয়ার অন্যতম ও দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকির আয়তন প্রায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর। ছোটবড় মিলে প্রায় ২৩৬টি বিল রয়েছে এই হাওরে। অসংখ্য খালগুলো দিয়ে কৃষকরা পানি সেচ করে কৃষি চাষ করেন। এসব খাল, বিলে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বর্ষা মৌসুমে খাল বিলের পানিতে একাকার হয়ে যায়। শীতকালে প্রচুর বিদেশি পাখির আগমন ঘটে এই হাওরে। বরফে ঢাকা পশ্চিমা দেশ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাখিগুলো আসে। শীতকমে গেলে তারা আবার ও তাদের দেশে ফিরে যায়।

বোরো আমন চাষের জন্য হাকালুকি হাওর প্রসিদ্ধ। শীতের কনকনে শীতে কৃষক ভোরে সূর্যের আলো ছড়ার সাথে সাথে হাওরে গিয়ে কৃষিকাজ করেন।

বর্ষাকালে হাওরের সবটুকুজুড়ে পানি আর পানি। সেই পানিতে বাস করেন হাজার রকমের ছোট বড় দেশীয় মাছ। বর্ষা মৌসুম চলে গেলে পানি কমে যাওয়ার কারণে মাছগুলো আশ্রয় নেয় ছোট বড় বিলগুলোতে। এসব বিলগুলো ইজারা দিয়ে কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে বাংলাদেশ সরকার।

মৎস্য, কৃষি কিংবা অতিথি পাখির কোলাহলে ভরপুর হাকালুকিতে একটা সময় বনাঞ্চল ছিল। প্রায় ৩০-৪০ বছর পূর্বেও হাকালুকি হাওরের বনে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ছিল। এসবের মধ্যে মেছো বিড়াল (মেছো বাঘ) শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বসবাস ছিল। হাওরের মধ্যে হিজল, করচের বন ছিল পাহাড়ি জঙ্গলের মত। এসব বনের গাছের নিচে মাছগুলো ডিম দিত, যাতে শিকারিরা সহজে জাল ফেলে পোনা মারতে না পারে। হাওরগুলো নিলামে দেওয়ার কারণে ইজারাদাররা এসব বন কেটে বিলে কাঁটা হিসেবে ব্যবহৃত করার কারনে আগেরমত সেই বনাঞ্চল নেই হাওরে। ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে কাঁটা হয় এসব গাছ। শুধু ২০২১ সালে বাঁধ নির্মাণের অজুহাতে এক মালাম বিল থেকে প্রায় ২০ হাজার গাছ কাটা হয়েছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে হাকালুকি হাওরের বনাঞ্চল পূর্বের মত ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিগত কয়েক বছরে প্রায় ৫০ হাজার হিজল, করচ ও বরুন গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থা থেকে পাহারাদার নিয়োগ দেওয়ার কারণে পূর্বেরমতো ইজারাদাররা সহজে গাছ কাটতে পারেন না। প্রকৃতির পরিবেশ রক্ষা, মাছের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এ বনাঞ্চল রক্ষার দাবি এলাকাবাসীর।

হাওরপাড়ের বাসিন্দারা বলেন, হাওরে আগে মাছের পাশাপাশি অনেক গাছ ছিল। আমরা মাছ মারতে গেলে সহজে জাল ফেলা যেত না। কিছুদিন আগে থেকে এসব গাছ রোপণ করার কারণে কিছুটা সৌন্দর্য ফিরে আসছে।

সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্পের ফিল্ড ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, একটা সময় হাকালুকি হাওরে প্রচুর জলজ গাছ ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বন বিভাগের আওতা থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাওরের ভূমির দায়িত্ব চলে যায়। এরপর থেকে তদারকির অভাবে গাছ কেটে জমি তৈরির কারনে গাছগুলো কাটা হয়েছে। সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্পের আওতায় সেই পুরনো বনাঞ্চল ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের সফলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার ও জলজ বৃক্ষে হাকালুকি তার ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে এ কর্মকর্তা আশা ব্যক্ত করেন।

পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, হাকালুকি হাওরে জলজ ও হিজল-করচসহ অনেক বনের বৈচিত্র্যময় গাছপালা ছিল। এগুলো অনেকটাই উজাড় হয়ে গেছে। এখন যারা এই উদ্যোগ নিয়েছে নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু তখনই এটিই পরিপূর্ণতা পাবে যখন আগের মতো গাছগুলো দেখা যাবে। এ ছাড়া আর অজুহাতে কোন দুষ্কৃতিকারীরা এই গাছগুলো কাটতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

হাকালুকি হাওর এশিয়ার বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হওয়ায় এখানে হিজল-তমাল জাতীয় জলাভূমি উপযোগী গাছের আধিক্য রয়েছে যা মাছের প্রজনন ও আশ্রয়স্থল।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন বলেন, সিএনআরএস যে উদ্যোগটি নিয়েছে সেটি খুব ভালো। হাকালুকি হাওরের বনাঞ্চল পূর্বের মত ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি এ ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ প্রশংসনীয়। এ ছাড়া আমাদের সাথে আলাপ করে এসবের পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থা থেকে পাহারাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরাও তাদেরকে সহযোগিতা করছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে তিউনিশিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে সুইডেন

পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশি ফল ডেউয়া

শেষ মুহূর্তে গোল, জয় দিয়েই আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু

যে দলগুলোর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি গোল খেয়েছে আর্জেন্টিনা

আরব সাগরে আটকে পড়া ১৪ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করল যুক্তরাষ্ট্র

নতুন ইউনিয়ন পেল শিবগঞ্জ উপজেলা

এইচএসসি ২০২৬ / নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিতে কেন্দ্রে চলবে কড়া নজরদারি

অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল শিক্ষিকার

নতুন ইরান চুক্তি জেসিপিওএর চেয়ে বেশি ভালো হবে না : ওবামা

স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যাচেষ্টা, পাষণ্ড স্বামী গ্রেপ্তার

১০

সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, শনাক্ত ২৭

১১

বেনজীরকে দেশে পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিল আমিরাত

১২

 শান্তি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষর

১৩

সোমবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৪

দিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

১৫

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

১৬

দেশে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরেও সতর্কতা

১৭

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৮

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে স্বাগত জানালেন এরদোয়ান

১৯

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র জাপানের

২০
X