রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জে উজাড় হচ্ছে আমবাগান, বাড়ছে পুকুর

গোদাগাড়ী উপজেলার একটি আমবাগান এভাবেই কেটে উজার করে ফেলা হচ্ছে। ছবি : কালবেলা
গোদাগাড়ী উপজেলার একটি আমবাগান এভাবেই কেটে উজার করে ফেলা হচ্ছে। ছবি : কালবেলা

দেশের প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে কমছে আমবাগানের পরিমাণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দুই জেলাতেই আমবাগানের জমির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। লাভজনক আম চাষ ছেড়ে অনেক কৃষক এখন পুকুর খনন ও মাছ চাষের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমবাগান ছিল ১৯,৬০৩ হেক্টর, যা বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে দাঁড়িয়েছে ১৯,০৬২ হেক্টরে। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩৭ লাখ আম গাছ রয়েছে, যার ৬০ শতাংশে ইতোমধ্যে মুকুল এসেছে।

একই চিত্র দেখা গেছে আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জেও। সেখানে গত অর্থবছরের ৩৭,৫০৪ হেক্টর থেকে আমবাগান কমে চলতি অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৩৭,৪৮৭ হেক্টরে। জেলার ৯২.৪ লাখ আম গাছের প্রায় ৭০ শতাংশে এখন মুকুলের সমারোহ।

কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আমবাগান কমার প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত পুকুর খনন। এছাড়া আরও কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

অধিক মুনাফা : ধান বা আম চাষের তুলনায় মাছ চাষে ১০-১৫ গুণ বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা দ্রুত জমির শ্রেণি পরিবর্তন করছেন।

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। বাঘার আমচাষি শহিদুল হোসেন জানান, আগে বছরে একবার স্প্রে করলেই হতো, এখন খরচ দ্বিগুণ করেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।

হরমোনের অপব্যবহার : দ্রুত ফলনের আশায় মাত্রাতিরিক্ত হরমোন ব্যবহার করায় অনেক পুরোনো ও বড় আমগাছ মারা যাচ্ছে।

বাজারজাতকরণ সমস্যা : হিমাগারের অভাব এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অনিশ্চয়তা চাষিদের আম চাষে নিরুৎসাহিত করছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রাজশাহী জেলায় নিট আবাদি জমি কমেছে ১৬,১৫৯ হেক্টর। বিপরীতে, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের পরিমাণ ১৫,০৪৪ হেক্টর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪,৪৯৮ হেক্টরে। তবে এই নেতিবাচক ধারার বিপরীতে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে নওগাঁ জেলায়। সেখানে পুকুর খনন কম হওয়ায় এবং আগাম জাতের আম লাভজনক হওয়ায় বাগানের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ৩০,৩১০ হেক্টর হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনোমি ও এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মুস্তাফিজুর রহমান এই প্রবণতাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, মৎস্য চাষ স্বল্পমেয়াদে আয় বাড়ালেও অতিরিক্ত পুকুর খনন মাটির গঠন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বদলে দেয়। একবার জমি জলাশয়ে রূপান্তর করলে পরবর্তীতে সেটিকে আবার ফসলি জমিতে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। এটি দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমের ঐতিহ্য রক্ষা এবং মাটির উর্বরতা ধরে রাখতে এখনই সমন্বিত ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। আম চাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে কঠোর অবস্থানে ইসরায়েল

বাড়ি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে ব্রিটিশ নারী, ঘুরেছেন ১৭৯ দেশ

এবার ছোটপর্দার গোয়েন্দা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়

হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে একসঙ্গে কাজ করবে ইরান ও ওমান

সরফরাজ হোসেনের কবিতা : নীল

ধর্মমন্ত্রীর প্রতি সেই ওমরাযাত্রীর পরিবারের কৃতজ্ঞতা

সন্তানদের সঙ্গে মিলে গেছে নতুন ২ ইউনিয়নের নাম, সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

জুনের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্সে শীর্ষে কৃষি ব্যাংক

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ছাত্রদল নেতা তৌহিদের বৃক্ষরোপণ

সেই হজযাত্রীর জন্য ধর্মমন্ত্রীর শোক

১০

রাশিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি  

১১

পশ্চিমবঙ্গের নতুন দল ‘এনসিপিআই’ বাংলাদেশে তৈরি, দাবি কংগ্রেস নেতার

১২

তিন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পূর্বাভাস

১৩

প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

১৪

২০২৬ বিশ্বকাপ কে জিতবে? চার এআই চ্যাট বক্সের একই উত্তর

১৫

বাংলাদেশি সাত জেলেকে বোটসহ ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

১৬

আ.লীগ নেতা কারাগারে

১৭

এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘হার এশিয়াটিক সার্কেল’

১৮

প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামে দুই ইউনিয়ন  

১৯

আদালতে জবানবন্দি / মেয়েকে মারধরের প্রতিশোধ নিতেই ৬ বছরের শিশুকে হত্যা

২০
X